নরসিংদী হত্যা মামলার বাদী ও আসামিপক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া

নরসিংদীর সাবেক মেয়র হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে আদালত প্রাঙ্গণেই তাঁর কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বাদীপক্ষ ও এলাকাবাসীর হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে
প্রথম আলো

নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক পৌর কাউন্সিলর মানিক হত্যা মামলার বাদী ও আসামিপক্ষের লোকজনের মধ্যে হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে মামলার প্রধান আসামি সাবেক পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। ২১ বছর পর অনুষ্ঠিত মামলার শুনানিতে তিনি হাজিরা দিতে আসছেন জেনে বাদীপক্ষের লোকজন ও কয়েক শ স্থানীয় বাসিন্দা আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন।

সাবেক মেয়র হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে আদালত প্রাঙ্গণেই তাঁর কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বাদীপক্ষ ও এলাকাবাসীর হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে আদালত পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি শহরের ভেলানগর এলাকায় প্রকাশ্যে খুন হন নরসিংদী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কমিশনার (কাউন্সিলর) মানিক মিয়া। হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের ভাই আমির ইসলাম বাদী হয়ে নরসিংদী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুজ্জামান, তাঁর বড় ভাই সাবেক মেয়র লোকমান হোসেন ও সমালোচিত সাবেক যুব মহিলা লীগ নেত্রী পাপিয়ার স্বামী সুমনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করে নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করেন।

মানিক হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাবেক পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান কামরুল আদালতে হাজিরা দিতে আসেন
প্রথম আলো

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী আদালতে বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে ২০০৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আসামিদের নামে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০০৭ সালের ১০ জুলাই মামলাটি স্থানান্তরিত হয় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। পরবর্তী সময়ে ওই আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরই মধ্যে ২০১১ সালে মামলার ৩ নম্বর আসামি সাবেক মেয়র লোকমান হোসেন নিহত হন। ওই আদালতে পর্যাপ্ত সাক্ষী ও আসামিরা হাজির না হওয়ায় সম্প্রতি মামলাটি নরসিংদী আদালতে পুনরায় স্থানান্তর করা হয়। আজ দুপুরে ওই মামলার শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। এই উপলক্ষে আদালতে হাজিরা দিতে আসেন ১ নম্বর আসামি কামরুজ্জামানসহ মোট চারজন আসামি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদালত প্রাঙ্গণে কামরুজ্জামান প্রবেশের পরই বাদীপক্ষের সঙ্গে আসামিপক্ষের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়ে যায়। পরে আদালতে হাজিরা দেওয়া শেষে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন বাদীপক্ষের লোকজন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে তাঁদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। গাড়িতে উঠে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার সময় কামরুজ্জামানের গাড়ির উদ্দেশে জুতা ও বোতল ছুড়ে মারা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

আদালত পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মামলার বাদী আমির ইসলাম বলেন, ‘মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। আমরা মামলার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গেলেই আমাদের নানাভাবে ভয় দেখানো হয়। আজকেও আদালতে আসার সময় রাস্তা আটকিয়েছে আসামি কামরুলের ক্যাডার বাহিনী। আমরা এই মামলার শেষ দেখতে চাই, আসামিদের সর্বোচ্চ বিচার চাই।’

নরসিংদী আদালতের এপিপি এন অলিউল্লাহ বলেন, ‘এই মামলার ৯ আসামির মধ্যে সুমন নামের একজন আসামি কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্য মামলায় আটক আছেন। অন্য আসামিদের মধ্যে কামরুজ্জামানসহ মোট চার আসামি হাজিরা দিতে আসেন। আদালতে হাজিরা দিয়ে তাঁরা চলেও যান। কিন্তু এরপর বাইরে কী হয়েছে, আমার জানা নেই।’

এই বিষয়ে জানতে সাবেক পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কামরুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি কল ধরেননি। এ কারণে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আদালত পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।