ফুলবাড়ীতে অর্পিত সম্পত্তি
ইজারা নিয়ে দলীয় কার্যালয়
আওয়ামী লীগের ওই কার্যালয়টি নির্মাণ করা হচ্ছে ছোট যমুনা নদীর সেতুর নিচে। এতে সেতুর নিচে নদীর পানিপ্রবাহের এক-তৃতীয়াংশ আটকে যাচ্ছে।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে অর্পিত সম্পত্তি ইজারা নিয়ে তৈরি হচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগের স্থায়ী কার্যালয়। ইজারা নেওয়া অর্পিত সম্পত্তিতে কোনো স্থায়ী স্থাপনা করার বিধান নেই। এ ধরনের জমি প্রশাসন সাধারণত এক বছরের জন্য ইজারা দেয়। সেই জমিতে আইনবহির্ভূতভাবে ইতিমধ্যে তিনতলা ভবনের ভিত্তি নির্মাণ করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। শুধু তা–ই নয়, ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে ছোট যমুনা নদীর সেতুর নিচে। এতে সেতুর নিচে নদীর পানিপ্রবাহের এক-তৃতীয়াংশ আটকে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভবনটি হলে নদীর গতিপথে বাধার সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। স্থাপনাটির বিষয়ে জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ভবনটির কারণে নদীর পানিপ্রবাহের গতিপথে বাধার সৃষ্টি হবে। তবে রেকর্ড অনুযায়ী জায়গাটি নদীর অংশ না হওয়ায় বিষয়টি দেখভালের এখতিয়ার তাঁদের নেই।
সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, যেকোনো স্থায়ী স্থাপনার ক্ষেত্রে মহাসড়ক থেকে অন্তত ৩০ ফুট দূরে করার নিয়ম। কিন্তু যে স্থানে ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে, সেতু থেকে সর্বোচ্চ ১৫ ফুট দূরত্ব হবে। ভবনটি হলে পানিপ্রবাহ আটকে যাবে।
গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলবাড়ি উপজেলা শহরের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ছোট যমুনা নদী। নদীর ওপরে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু। মূল সড়ক থেকে প্রায় ৩০ ফুট সেতুর নিচে এবং নদীর কোল ঘেঁষে নির্মাণ করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়। এ সময় স্থানীয় অনেকেই জানান, কাগজে–কলমে জায়গাটি নদীর অংশ না হলেও ভবনটি নদীর মধ্যেই পড়েছে। খরার মৌসুমেই ভবনের শেষ কলামটির পাশ দিয়ে নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ভরা বর্ষায় ওই জায়গা দিয়েই নদীর পানি প্রবাহিত হয়। ফলে নদীর গতিপথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে।
উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত হায়দার আলী শাহ দলীয় কার্যালয় নির্মাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর গৌরীপুর মৌজায় ২৩৭ নম্বর খতিয়ানের ১২০/৪৫৭ দাগে সরকারি অর্পিত সম্পত্তিতে (‘ক’ তালিকাভুক্ত) ৬ শতক জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়।
অর্পিত সম্পত্তি বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০১৯ সালের পরিপত্র অনুযায়ী, এই সম্পত্তির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ, দখল গ্রহণ, ব্যবস্থাপনা ও ইজারা প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া আছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের হাতে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ইজারা প্রদান করলেও ইজারাগ্রহীতা বরাদ্দ করা জায়গায় কোনো স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারবে না। তবে সেই নিষেধের তোয়াক্কা করছেন না আওয়ামী লীগ নেতারা।
ভবন নির্মাণের কাজ দেখভাল করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী আশরাফুল আলম। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, জায়গাটি নদীর জায়গা না। ভবনটির নিচ দিয়ে পানিপ্রবাহের সুযোগ থাকবে।
জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ওই জায়গাটা ৩৮ শতক। উপজেলা আওয়ামী লীগ ৪ শতক ইজারা নিয়ে অফিস নির্মাণ করছে। প্রশাসনকে জানিয়েই অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে ফুলবাড়ীর ইউএনও রিয়াজ উদ্দিন বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ থেকে অস্থায়ী দলীয় অফিস করার জন্য জায়গাটি বরাদ্দ নিয়েছে। ওই জায়গায় স্থায়ী স্থাপনা করার কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।