সোমবার সন্ধ্যার পর শিঙাড়া হাউসে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট টেবিলের সামনে বসে আছেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক সঞ্জয় সরকার। তিনি এখানে ১০ বছর ধরে কাজ করেন। বললেন, এখানকার শিঙাড়ার পুর হিসেবে যেটা দেওয়া হয়, সেই আলু-সবজি রান্নায় ব্যবহার করা হয় বিশেষ মসলা। আর শিঙাড়ার সঙ্গে দেওয়া হয় চাটনি। দুইয়ের সমন্বয়ে শিঙাড়ার স্বাদ বেড়ে যায় বহু গুণে। শিঙাড়া হাউসের স্বত্বাধিকারী ভবতোষ সরকার এখন শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিয়মিত দোকানে বসতে পারেন না।

এখানে নিয়মিত শিঙাড়া খেতে আসেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কবি মাহমুদ নাসির। তিনি বলেন, ‘আমি ৩০ বছর আগে দোকানের পরিবেশ যেমন দেখেছি, এখনো তেমনই দেখছি। কোনো চাকচিক্য নেই। শুধু আগের টিনের প্লেট বদলে হয়েছে স্টিলের। টেবিলগুলো বদলেছে। আঁটসাঁট জায়গা হলেও শিঙাড়ার সুনাম এখনো রয়েছে। তাই অনেকের মতো আমিও ছুটে আসি।’

দূরদূরান্তের লোকজন রংপুরে এলে এখানকার শিঙাড়ার স্বাদ নিতে আসেন। আর রংপুরের যাঁরা জীবিকার প্রয়োজনে জেলার বাইরে থাকেন, তাঁরাও রংপুরে এলে একবার এই দোকানে ঢুঁ দেন।
প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ভবতোষ সরকারের বাড়ি শহরের গুপ্তপাড়ায়। দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর সংসার।

ভবতোষ সরকার বলেন, ‘৬২ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী শিঙাড়া হাউসে শিঙাড়ার ব্যবসা করেই জীবনটা কেটে যাচ্ছে। দুই মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করেছি। বড় মেয়ে লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি পড়ে বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশায় যুক্ত। ছোট মেয়ে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর করেছে।’ দোকানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুরুতে এক টাকায় চারটি শিঙাড়া বিক্রি হতো। এখন প্রতিটি শিঙাড়া চাটনিসহ পাঁচ টাকায় বিক্রি হয়। দেশের বিশিষ্ট অনেকে তাঁদের এই ছোট্ট দোকানে বসে শিঙাড়া খেয়েছেন। সর্বশেষ বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী এই দোকানের শিঙাড়া খেয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।