সীমান্তে পুশ ইন বন্ধে দিল্লিকে ১৩টি চিঠি দিয়েছে ঢাকা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ভারত থেকে ‘পুশ ইন’ বন্ধের দাবিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিল্লিকে ইতিমধ্যে ১৩টি চিঠি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রেসক্লাবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁকে এ সংবর্ধনা দেয় সালথা প্রেসক্লাব।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বিজিবি অত্যন্ত কঠিন অবস্থায় আছে। শক্ত অবস্থায় আছে। ভারতের থেকে যেসব পুশ ইন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটা বিজিবি প্রতিহত করছে। ইতিমধ্যে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ১৩টা চিঠি গিয়েছে দিল্লিতে, এই পুশ ইন বন্ধ করার জন্য। যেকোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অবৈধ বা তাদের অবৈধ নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার জন্য বা ফেরত পাঠানোর জন্য একটা সুস্পষ্ট নীতিমালা আছে। একটা মেকানিজম আছে। আমরা আশা করব যে ভারত সরকার সে মেকানিজম, সে নীতিমালা অবলম্বন করবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কোনো বাংলাদেশি ওখানে (ভারতে) অবৈধভাবে থেকে থাকে, তারা সেই নীতিমালা বা মেকানিজম ব্যবহার করে বৈধ পথে আমাদের সঙ্গে কূটনীতির মাধ্যমে সেই বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাবে। একইভাবে বাংলাদেশে যদি কোনো অবৈধ ভারতীয় থেকে থাকে, তাদেরও আমরা সেই নীতিমালা, মেকানিজম ব্যবহার করে ফেরত পাঠাব। রাতের অন্ধকারে পুশ ইন করা বা এ ধরনের কাজ থেকে ভারত সরকার বিরত থাকবে বলে আমরা আশা করি। আমরা কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছি। কূটনীতির মধ্য দিয়ে আমরা এটা সমাধান করব।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশে শামা ওবায়েদ বলেন, সাংবাদিকতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র পেশা। বর্তমানে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও প্রভাবশালী হয়ে উঠছে। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। এআইকে ব্যবহার করে, প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন দল, বিরোধী দল বা বিরোধী মত বা যাকে পছন্দ না, তার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে সংবাদ তৈরি করে অনেক সময় প্রকাশ করা হয়। সেগুলোর বিরুদ্ধে বিএনপি সরকার সোচ্চার আছে।
সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহাম্মদ আল ফাহাদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুন সরকার, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবলুর রহমান খান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার।