সুন্দরবনের রাসমেলায় যাওয়া যাবে পাঁচ পথে

সুন্দরবন
ফাইল ছবি

রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে সুন্দরবনের দুবলার চরে আয়োজিত রাস মেলায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রীদের জন্য পাঁচটি নৌপথ নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ রোববার এ–সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সুন্দরবন পশ্চিম ও পূর্ব বন বিভাগ।

এসব নৌপথে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তায় বন বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের টহল দল নিয়োজিত থাকবে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাসের ওরফে মোহসিন হোসেন।

খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চল দিয়ে যেসব দর্শনার্থী প্রবেশ করবেন, তাঁদের জন্য তিনটি নৌপথ নির্ধারণ করেছে পশ্চিম বন বিভাগ। এগুলো হলো সাতক্ষীরার বুড়িগোয়ালিনী ও কোবাদক ফরেস্ট স্টেশন থেকে বাটুলানদী-বল নদী-পাটকোস্টা খাল–হংসরাজ নদী হয়ে দুবলার চর। খুলনার কয়রা ও কাশিয়াবাদ স্টেশন থেকে খাসিটানা-বজবজা–আড়ুয়া শিবসা-শিবসা-মরজাত নদী হয়ে দুবলার চর এবং নলিয়ান স্টেশন থেকে শিবসা-মরজাত নদী হয়ে দুবলার চর।

বাগেরহাট দিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে পূর্ব বন বিভাগের নির্ধারিত নৌপথ দুটি। এগুলো হলো বাগেরহাটের ঢাংমারী বা চাঁদপাই স্টেশন থেকে পশুর নদ ও তিনকোনা দ্বীপ হয়ে দুবলার চর। বগী-বলেশ্বর-সুপতি-কচিখালী-শেলার চর হয়ে দুবলার চর।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওই অনুষ্ঠান উপলক্ষে ৬ নভেম্বর সকালে বন বিভাগের বিভিন্ন স্টেশন থেকে তীর্থযাত্রীরা ট্রলার বা লঞ্চ নিয়ে দুবলার চরের উদ্দেশে রওনা দেবেন। ৮ নভেম্বর সকালে পুণ্যস্নান শেষে দুবলার চর থেকে ফিরবেন পুণ্যার্থীরা।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, রাস মেলায় দুবলার চরে যেতে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ আবেদন করতে হবে। প্রবেশের সময় প্রতিটি এন্ট্রি পয়েন্টে লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকার প্রবেশ ফি, অবস্থান ফি, লোকের সংখ্যা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করে পাস দেবে বন বিভাগ। দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। মাস্কবিহীন কোনো তীর্থযাত্রী পুণ্যস্নানস্থলে যেতে পারবেন না।

প্রতিটি অনুমতিপত্রে নির্দিষ্ট নৌপথ উল্লেখ করে দেবে বন বিভাগ। যাত্রীরা নির্ধারিত পথগুলোর মধ্যে পছন্দমতো একটি পথ ব্যবহার করতে পারবেন। বন বিভাগের তল্লাশি এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও নৌকা, লঞ্চ বা ট্রলার থামানো যাবে না।

সুন্দরবনের পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য প্রজ্ঞাপনে কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ট্রলারে কোনো প্লাস্টিকের খাবারের প্লেট বহন করা যাবে না। লঞ্চ, ট্রলার, নৌকায় ও পুণ্যস্নানস্থলে মাইক বাজানো, পটকা, বাজি ফোটানোসহ কোনো প্রকার শব্দদূষণ করা যাবে না।