বখাটের হামলায় দাঁত ভেঙে যাওয়া স্কুলছাত্রী হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত স্কুলছাত্রী। আজ বুধবার দুপুরেছবি : প্রথম আলো

বরগুনার বেতাগীতে বখাটের মারধরে আহত স্কুলছাত্রী হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। মাঝেমধ্যে ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠছে। আজ বুধবার দুপুরে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

গত সোমবার বিকেলে চারটার দিকে উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর ওপর হামলা করেন মো. ফয়সাল নামের এক বখাটে। চড়–লাথিতে ছাত্রীর ওপরের পাটির সামনের তিনটি দাঁত ভেঙে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে আহত ছাত্রীর মা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে বেতাগী থানায় মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি মো. ফয়সালের (২৩) বাড়ি বিদ্যালয়ের পাশে গাবতলী গ্রামে। ঘটনার পর থেকে ফয়সাল পলাতক। পুলিশ তাঁর মা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা দুজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রীর পাশে ছিলেন তার মা। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। মা হয়ে আমি দেখতে পারছি না। মেয়ের অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমি উপযুক্ত বিচার চাই।’

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মাহমুদ মুর্শিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোগীর ওপরের সামনের অংশের যে তিনটা দাঁত পড়ে গেছে, ওই জায়গায় ইনফেকশন (সংক্রমণ) আছে। ক্ষত শুকানোর পরে ওখানে ডেন্টালের চিকিৎসা শুরু করব। কীভাবে দাঁত পুনঃস্থাপন করা যায়, সে ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নেব। রোগী এই মুহূর্তে শঙ্কামুক্ত। তবে তাকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকতে হবে।’

আরও পড়ুন

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে ওই ছাত্রী স্কুলের ওয়াশরুমে গেলে ফয়সাল সেখানে উঁকি দেন। মেয়েটি টের পেলে দ্রুত সটকে পড়েন ফয়সাল। এরপর সে ঘটনাটি স্বজনদের জানায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হয়ে মেয়েটিকে মারধরের হুমকি দেন ফয়সাল। এতে ভয়ে সোমবার ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে পাঠাননি তার মা। পরে বাড়ি গিয়ে তার এক শিক্ষক তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন। সোমবার বিকেল চারটার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর ওই ছাত্রী বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফয়সাল তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এতে ছাত্রীর ওপরের সামনের তিনটি দাঁত ভেঙে যায়।

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, মামলার ২ ও ৩ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফয়সালকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।