সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সুনামগঞ্জের সড়ক দূরত্ব কমাতে সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। তবে ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর ওই সড়কের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান আবারও সড়কের কাজ শুরু করেন। ২০১৪ সালে ওই সড়কের কাজ শেষ হয়। তবে সড়কের জগন্নাথপুর উপজেলা অংশে ঝুঁকিপূর্ণ সাতটি সেতু এবং কুশিয়ারা নদীর ওপর সেতু না থাকায় সড়কটি পুরোপুরি চালু হচ্ছিল না।

এরপর ২০১৭ সালে কুশিয়ারা নদীর ওপর ৭০২ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ১০ মিটার প্রস্থের রানীগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরের বছর ২০১৮ সালে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ৭টি সেতু ভেঙে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ওই সাত সেতু হলো মহাসড়কের জগন্নাথপুর উপজেলা অংশে আক্তারপাড়া সেতু, কোন্দানালা সেতু, দাঁড়াখাই সেতু, কলকলিয়া সেতু, খাশিলা সেতু, মজিদপুর-নাদামপুর সেতু ও কাটাখাল সেতু।

জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকমল হোসেন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক মহাসড়কটি চালুর স্বপ্ন দেখে আসছিলাম। নানা প্রতিবন্ধকতায় মহাসড়কে সরাসরি যান চলাচল সম্ভব হচ্ছিল না। তবে এখন আর সুনামগঞ্জবাসীকে সিলেট শহর হয়ে ঢাকায় যেতে হবে না। ৬০ কিলোমিটার দূরত্ব কমিয়ে আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়েই যাতায়াত করা যাবে।’

সুনামগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, আঞ্চলিক এ মহাসড়কে আড়াই শ কোটি টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জবাসীর স্বপ্নের রানীগঞ্জ সেতুসহ আটটি সেতু উদ্বোধন করা হলো।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আজ হাওরবাসীর জন্য আনন্দের দিন। রানীগঞ্জ সেতুসহ মহাসড়কটি চালু আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। এটা বাস্তবায়ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এই সড়ক জেলার যোগাযোগ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’