কুমিল্লায় গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে দুজনকে গুলি করে ও হাত–পায়ের রগ কেটে হত্যা
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুজনকে গুলি ও হাত–পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত দুজন হলেন দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামের সালেহ আহমেদ (৬০) ও তাঁর ভাতিজা দেলোয়ার হোসেন ওরফে নয়ন (৪০)। তাঁরা একই গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য প্রয়াত ছালেহ আহম্মদের গোষ্ঠীর সদস্য। তাঁদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের খায়ের আহমেদ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
এর আগে গত বছরের ৩ আগস্ট গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে খায়ের আহমেদ গোষ্ঠীর মো. আলাউদ্দিনকে (৫৫) বাড়ির সামনে থেকে তুলে এনে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। আলাউদ্দিন স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে একাধিকবার তারা সংঘর্ষে জড়িয়েছে। ছালেহ আহম্মদ ও খায়ের আহমেদ গোষ্ঠীর মধ্যে গত বছরের ২৫ জুলাইও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দিন দফায় দফায় সংঘর্ষে ১৫ জন ছররা গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। এ সময় ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর ৩ আগস্ট সাবেক ইউপি সদস্য আলাউদ্দিনকে বাড়ির সামনে থেকে তুলে এনে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।
ওই হত্যাকাণ্ডের পর ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর সদস্যরা দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে বাইরে অবস্থান করেন। ৩ জানুয়ারি ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর সদস্যরা এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে খুন হওয়া আলাউদ্দিনের পক্ষের লোকজন তাঁদের বাধা দেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে দুই পক্ষকে বারবার শান্ত থাকতে বলা হয়। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ দুপুরে খায়ের আহমেদ গোষ্ঠীর সদস্যরা ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর সদস্যদের ওপর হামলা ও গুলি চালায় বলে অভিযোগ। এতে দুজন নিহত হন।
নিহত দেলোয়ার হোসেনের বোন হাজেরা আক্তার বলেন, ‘ওই গোষ্ঠীর সন্ত্রাসীরা আলাউদ্দিন মেম্বার নিহত হওয়ার পর আমাদের ঘরবাড়ি সব জ্বালিয়ে দিয়েছিল। কয়েক দিন আগে আমরা বাড়ি গিয়ে তাঁবু টানিয়ে থাকতে শুরু করি। আজ দুপুরে আলাউদ্দিন মেম্বারের ছেলেসহ দুই শতাধিক সন্ত্রাসী একসঙ্গে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশি অস্ত্র ছিল। সন্ত্রাসীরা আমার ভাই ও চাচা সালেহ আহমেদের ওপর গুলি চালায়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁদের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। তাদের হামলায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই।’
এ বিষয়ে কথা বলতে আলাউদ্দিন মেম্বার বা খায়ের আহমেদ গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর তাঁরা এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।
নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, আজ দুপুরে গুরুতর আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে হাসপাতালে আনার আগেই দুজনের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তিদের শরীরে গুলির আঘাত ও হাত–পায়ের রগ কাটা দেখা গেছে। আহত অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকা থেকে পলাতক। তাঁদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ব্যক্তিদের ওপর ছররা গুলি চালানো হয়েছে। এ ছাড়া হাত ও পায়ের রগ কাটার চিহ্ন আছে। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’