চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত রাখতে ইউজিসির চিঠি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ফাইল ছবি

সংবিধি না মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বাংলা বিভাগের চলমান শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত করার অনুরোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। একই নিয়মে চলমান অন্য বিভাগের নিয়োগপ্রক্রিয়াও স্থগিতের অনুরোধ করেছে কমিশন।

গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে দেওয়া এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। এতে গত ১৫ ডিসেম্বর প্রথম আলোর অনলাইনে প্রকাশিত এক সংবাদের সূত্র তুলে ধরা হয়েছে।

ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান চিঠিতে সই করেন। চিঠিতে নিয়োগ-সংশ্লিষ্ট এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা জরুরি ভিত্তিতে লিখিতভাবে কমিশনকে জানানোরও অনুরোধ করা হয়।

চিঠির বিষয়ে জানতে চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নূর আহমদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক হাসিনা খান প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের ব্যাপারে তাঁরা প্রতিনিয়ত শুনছেন। এসব অনিয়ম আটকানোর জন্যই তাঁরা বিধিনিষেধ দিচ্ছেন।

গত ১৭ ডিসেম্বর অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করে নিয়োগের চেষ্টার অভিযোগ এনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিল শিক্ষক সমিতি। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি করা হয়। তবে সমিতির এ অবস্থানের মধ্যেই ওই দিন আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয় কর্তৃপক্ষ।

এরপর উপাচার্য শিরীণ আখতার ও সহ-উপাচার্য বেনু কুমার দের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান ও প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষক সমিতি। যদিও সমিতির আন্দোলনের মুখে ১৮ ডিসেম্বর বাংলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা অনুযায়ী, কোন বিভাগে কতজন শিক্ষক দরকার হবে, তা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরিকল্পনা কমিটি। এরপর শূন্য পদের বিপরীতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর এসব তথ্য পাঠানো হয় নিয়োগ বোর্ডে। বোর্ড প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয় এবং নিয়োগের সুপারিশ করে। পরে সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদন হয়। তবে বাংলা ও আইন বিভাগের ক্ষেত্রে এসব নিয়ম মানা হয়নি। বিজ্ঞপ্তি দেওয়া, প্রার্থী বাছাই—সবকিছু কর্তৃপক্ষই করেছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য শিরীণ আখতার ২১ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছেন, সিন্ডিকেট প্রদত্ত বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করেই তিনি এ নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। আইনের কোনো লঙ্ঘন করেননি।