জামালপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার দায়ে ওসিসহ চারজনের যাবজ্জীবন
জামালপুর রেলস্টেশনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বারীককে (৬০) হত্যার ঘটনায় জিআরপি থানার সাবেক ওসিসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জামালপুরের বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবু তাহের আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন জামালপুর জিআরপি থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌর চন্দ্র মজুমদার, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহরাব আলী, কনস্টেবল তপন বড়ুয়া ও জামালপুর রেলস্টেশনের টিকিট কালেক্টর (টিসি) আনিছুর রহমান।
নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বারীক জামালপুর শহরের হাটচন্দ্রা এলাকার বাসিন্দা।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১১ জুলাই সকালে বিনা টিকিটে ভ্রমণের অভিযোগে আবদুল বারীকের ছোট ছেলে মাজহারুল হককে জামালপুর রেলওয়ে পুলিশ আটক করে। খবর পেয়ে আবদুল বারীক স্টেশনে যান। সেখানে পুলিশের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আবদুল বারীককে একজন পুলিশ সদস্য ঘুষি মারলে তিনি মেঝেতে পড়ে গিয়ে মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত পান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এক দিন পর আবদুল বারীকের বড় ছেলে মিজানুর রহমান বাদী হয়ে জামালপুর রেলওয়ে থানায় ওই চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জামালপুরের বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি নূরুল করিম। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. আমান উল্লাহ।
দণ্ডপ্রাপ্ত সোহরাব আলীর স্ত্রী মাহবুবা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার স্বামী নির্দোষ। আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। ন্যায়বিচারের জন্য আমরা উচ্চ আদালতে যাব।’