মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় সামনে দাঁড়ানো নিয়ে বিএনপি নেতাদের হাতাহাতি

বগুড়া-৬ সদর আসনে উপনির্বাচনে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার দলীয় মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সোমবার দুপুরে জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কক্ষেছবি: প্রথম আলো

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ (বগুড়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা) আসনে উপনির্বাচনে আলাদা আলাদাভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বিএনপি ও জামায়াতের দুজন প্রার্থী। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় সামনে দাঁড়ানো নিয়ে বিএনপির নেতা–কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে আজ মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বগুড়া জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিমের কাছে প্রথমে জামায়াত এবং পরে বিএনপির প্রার্থী আলাদাভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

বেলা আড়াইটার দিকে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম (বাদশা) রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাঁর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এ সময় বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ কে এম মাহবুবর রহমান, সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, আলী আজগর তালুকদার, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ তাহাউদ্দিন, বগুড়া যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সরকার মুকুল ছাড়াও জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অনেক শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় সামনে দাঁড়ানো নিয়ে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ তাহাউদ্দিনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীর সঙ্গে সাধারণত সর্বোচ্চ পাঁচজন সমর্থক বা অনুসারী উপস্থিত থাকতে পারেন। এ সময় কোনো শোডাউন বা জনসমাগম হওয়া যাবে না। অথচ বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় বহু নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

হাতাহাতির বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় জ্যেষ্ঠ নেতাদের বদলে কনিষ্ঠ নেতারা সামনে আসার জন্য হুড়োহুড়ি করছিলেন। এ সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ তাহাউদ্দিনের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে, কোনো হাতাহাতির ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ তাহাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আলী আজগর তালুকদার সিনিয়র নেতা, আমার বড় ভাই। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীর সঙ্গে দাঁড়ানো নিয়ে তাঁর সঙ্গে একটু তর্কবিতর্ক এবং ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।’

দল বেঁধে যান জামায়াত মনোনীত প্রার্থীও

বেলা দুইটার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুর করিমের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান। তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য এবং সংগঠনের বগুড়া শহর শাখার আমির। তাঁর মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও গণপ্রতিনিধিত্ব আইন মানা হয়নি।
আবিদুর রহমানের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় বগুড়া শহর জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম আবদুল মালেক, সহকারী সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, আইন সম্পাদক শাহীন মিয়া, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আবদুস ছালাম (তুহিন), মিডিয়া সম্পাদক ইকবাল হোসেন, অফিস সেক্রেটারি আবদুল হামিদ, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখার সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুনসহ উপস্থিত ছিলেন।

মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় এ বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ না মানা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বগুড়া শহর জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম আবদুল মালেক বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আইন মেনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় পাঁচজন উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও কয়েকজন নেতা বেশি ছিলেন।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ৫ মার্চ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। ৬ মার্চ থেকে শুরু করে আপিল চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১১ মার্চ, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখ ১৪ মার্চ ও প্রতীক বরাদ্দ ১৫ মার্চ। ভোট গ্রহণ আগামী ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনে তিনি ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। তারেক রহমান বগুড়া–৬ আসনের পাশাপাশি ঢাকা-১৭ আসনে বিজয়ী হন। এর মধ্যে তিনি বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ থেকে বিএনপি বগুড়া-৬ আসনে জয় পেয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিপুল ভোটে জয়ী হন। ২০১৮ সালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।