উপজেলার সোনারং এলাকার সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা আবদুর রশিদ বলেন, ‘খালটি দিয়ে নৌকায় করে সোনারং থেকে বেতকায় আসা-যাওয়া করতাম। কয়েক বছর আগে রাস্তা নির্মাণ করতে খালের ওপর কালভার্ট নির্মাণ করা হলো। এরপর খালই দখল করে নেওয়া হয়েছে।’

সরজমিনে দেখা যায়, বেতকা নতুন বাজারের পশ্চিম অংশে খালটি ভরাট করা হয়েছে। ভরাট করা অংশে ছোট ছোট দোকান ঘরের ভিটা নির্মাণ করে রাখা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একেকটি দোকানঘরের ভিটা তিন লাখ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়া খালের পাশে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি ভেবে টংদোকান বসিয়ে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছিলেন, তাঁদেরও উচ্ছেদের পাঁয়তারা চলছে।

খালটির উৎপত্তিস্থল মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার ইছামতী নদী থেকে। এরপর সেটি উপজেলার আবদুল্লাপুর ইউনিয়নের হাসকিরা, পাইকপাড়া, খিলপাড়া ও দক্ষিণ বেতকা হয়ে আউটশাহী ইউনিয়নের নোয়ার্দা, সোনারং দিয়ে টঙ্গিবাড়ী খালের সঙ্গে মিশেছে। তবে দক্ষিণ বেতকা বাজারের পাশের অংশটুকু ভরাটের ফলে খালটি এখন অস্তিত্বসংকটে।

দক্ষিণ বেতকা মৌজার ম্যাপ, এসএ, আরএস পরচা ও কাগজপত্র থেকে জানা যায়, দক্ষিণ বেতকা মৌজার ভরাটকৃত সরকারি খালের পূর্ব পাশে সিএস ৬০৫ এবং আরএস ৬৬৮ নম্বর দাগের ৩২ শতাংশ চাষের জমি ছিল। এর মধ্যে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি ছিল ১২ শতাংশ। ক্রয় সূত্রে বাকি ২০ শতাংশ জমির মালিকানা হাকিম ব্যাপারী ও শফিকুর রহমান। পরে তাঁরা ১২ শতাংশ অর্পিত সম্পত্তি নিজেদের নামে নামজারি করে নেন। তবে এই নামজারি জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ। জমি ঘেঁষেই ছিল ২৫ ফুট চওড়া সরকারি খাল। ভরাটের কারণে বর্তমানে সেখানে খালের অস্তিত্ব নেই।

স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, এ খাল দিয়ে মিরকাদিম হয়ে মানুষজন নৌকায় করে টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় আসা–যাওয়া করতেন। খালের পানি স্থানীয় লোকজন চাষাবাদ ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করতেন। আট–নয় বছর আগে খালের ওপর দিয়ে আড়াআড়ি করে সড়ক নির্মাণের ফলে বন্ধ হয়ে যায় পানিপ্রবাহ। এ সুযোগ কাজে লাগান স্থানীয় প্রভাবশালী শফিকুর রহমান, হাকিম ব্যাপারীসহ কয়েকজন।

এ বিষয়ে শফিকুর রহমানকে একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে হাকিম ব্যাপারী বলেছেন, খালে ভরাট করা অংশে তাঁরা ক্রয় সূত্রে মালিক হয়েছেন। তাঁদের ব্যক্তিগত জায়গা ভরাট করতে গিয়ে খাল পড়েছে কি না, তাঁর জানা নেই। তবে তাঁদের অংশ একসময় অর্পিত সম্পত্তি ছিল। সরকার সুযোগ দেওয়ার পর এটির নামজারি করা হয়েছে।

নোয়র্দা এলাকার নুর ইসলাম তালুকদার বলেন, খালটি অনেক জায়গায় ভরাট হয়ে গেছে। তবে এখনো অনেক জায়গায় খালের অস্তিত্ব আছে। এলাকাবাসীর চাওয়া, প্রশাসনের মাধ্যমে খালটি যেন উদ্ধার করা হয়।

টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. রাশেদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, খালটির বিষয়ে দ্রুত খোঁজ নেওয়া হবে। যদি কেউ খালের জায়গা, সরকারি সম্পত্তি দখল করে থাকে, তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।