বাউফলে ফুটন্ত ভাতের হাঁড়ি ঢেলে গৃহবধূর শরীর ঝলসে দিলেন ননদ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোছা. শারমিন বেগম। শনিবার দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
ছবি: প্রথম আলো

পটুয়াখালীর বাউফলে ফুটন্ত ভাতের হাঁড়ি ঢেলে এক গৃহবধূর শরীর ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ননদের বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কর্পূরকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যাওয়ায় ওই গৃহবধূকে প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী মোছা. শারমিন বেগম (২৮) বাউফলের কর্পূরকাঠী গ্রামের মো. দুলাল প্যাদার স্ত্রী। অভিযুক্ত মোছা. সালমা বেগম (২২) তাঁর ননদ।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার বেলা দুইটার দিকে শারমিন রান্নাঘরে মাটির চুলায় ভাত রান্না করছিলেন। পাশে বসে সবজি কাটছিলেন তাঁর ননদ সালমা। এ সময় পারিবারিক পূর্ববিরোধের জেরে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। সালমা হঠাৎ ফুটন্ত ভাতের হাঁড়ি শারমিনের শরীরে ঢেলে দেন। এ ঘটনায় শারমিনের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। তাঁর চিৎকার শুনে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তপ্ত ভাত ও মাড় আঠালো হওয়ায় শারমিনের ঘাড়, বুক, পিঠ, হাত ও পায়ের বিভিন্ন অংশে লেগে পড়ায় তাঁর শরীরের প্রায় ২০ শতাংশ ঝলসে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শারমিনের স্বামী দুলাল প্যাদা বলেন, তাঁর বোন সালমা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। হঠাৎ করেই তিনি এই অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যক্তির পক্ষে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।