অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটা ম্যান্ডেট ছিল: উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম বলেছেন, ‘আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি ম্যান্ডেট ছিল। এক. যারা অপরাধ করেছে, মানুষ হত্যা করেছে, তাদের বিচার করা; দুই. সংস্কার করা এবং সেই সংস্কারের ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোট এবং তিন. নির্বাচন দেওয়া।’
গতকাল শুক্রবার বিকেলে সিলেটের লাক্কাতুরা গলফ মাঠে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের আয়োজনে এক উঠান বৈঠকে ফারুক-ই-আজম এ কথা বলেন। জেলা তথ্য কার্যালয়, সিলেটের উদ্যোগে গণভোট ও নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বলেন, ‘নির্বাচন আমরা দিয়েছি। নির্বাচনের প্রার্থীরা আপনাদের কাছে আসবে। আপনারা তাঁদের প্রশ্ন করবেন, আপনাদের জীবনমানের উন্নতি হচ্ছে না কেন, সন্তানদের ভালো ব্যবস্থায় পড়াতে পারছেন না কেন, চিকিৎসা করতে পারছেন না কেন, পেটভরে খেতে পারছেন না কেন, কেন সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করতে পারছেন না। এই প্রশ্ন করার অধিকার যে অর্জন করেছেন, সেটার জন্য জুলাই আন্দোলনে নিহত মানুষেরা জীবন দিয়েছেন। এটিই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ফসল। এই ফসল আপনারাই ঘরে তুলবেন।’
উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম আরও বলেন, ‘যার যার ভিন্নমত আছে, দল করেন, পছন্দমতো ভোট দেবেন—এ ব্যাপারে আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো বক্তব্য নেই। তবে রাষ্ট্র পরিবর্তনের জন্য প্রার্থীদের দায়বদ্ধ করতে যে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে, সেই জুলাই সনদে আপনারা “হ্যাঁ” ভোট দেবেন। তাহলে রাষ্ট্র আপনার হবে। কেউ আর বছরের পর বছর মানুষ হত্যা করে, মানুষকে দমন করে, কথা বলতে না দিয়ে বৈষম্য সৃষ্টি করে ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। এটা আপনার রাষ্ট্র—ভোট দিয়ে এর চাবি নিজের হাতে নিন।’
অনুষ্ঠানে সিলেটের চা-শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই গণভোট নিয়ে প্রশ্ন করেন। রঘু দাস নামের এক চা-শ্রমিক জানতে চান, ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো প্রার্থী আছে কি না। শিলা নায়েক নামের আরেক শ্রমিক বলেন, চা-বাগানে কোনো চিকিৎসাসুবিধা নেই, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে এর সমাধান হবে কি না।
এসব প্রশ্নের জবাব দেন উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘রাষ্ট্রে একজন সরকার যায়, আরেকজন আসে; কিন্তু আমাদের মানের পরিবর্তন হয় না। কেন হয় না—এই প্রশ্ন করতে হবে।’ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি পরিবারে চার ভাই, চার বোন—সবাই ভালো হলে একে অন্যকে সাহায্য করবে। কিন্তু যদি সবাই আলাদা আলাদা হয়ে যায়, শত্রুতা তৈরি হয়, তাহলে কেউ কাউকে সাহায্য করবে না। রাষ্ট্রও একটি পরিবারের মতো—ছোট পরিবার আর বড় পরিবারের পার্থক্য শুধু আকারে।’
সভা শেষে গণভোটের পক্ষে প্রচার গাড়ির মাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান, সিলেটের সিভিল সার্জন, সিলেট তথ্য কার্যালয়ের কর্মকর্তা, সদর উপজেলার ইউএনওসহ প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা।