হবিগঞ্জে ঢুকতেই এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিল পুলিশ

পুলিশের বাধার পর ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন এনসিপির নেতারা। বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জের বাহুবলের কামাইছড়া এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে আবার বাধার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া এলাকায় পৌঁছাতেই তাঁদের পথরোধ করে পুলিশ। সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁরা সেখানেই অবস্থান করছিলেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘটনাস্থল ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের কামাইছড়া এলাকায় একটি বাস আড়াআড়িভাবে রাখা হয়েছে। অবরোধের শুরুতে হালকা বৃষ্টি হয়। এনসিপির নেতারা বৃষ্টির মধ্যেও রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। ‘বাহ্‌ পুলিশ চমৎকার, স্বৈরাচারের তাঁবেদার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। আড়াআড়ি দাঁড় করানো বাসের সামনে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশ ও স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) দুই শতাধিক সদস্য।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় শহরে এনসিপি প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ হবিগঞ্জসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় দলটি। পরে হবিগঞ্জ বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জ শহরে যাচ্ছিলেন।

শ্রীমঙ্গলে চা–কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে পুলিশের ব্যারিকেড
ছবি: প্রথম আলো

এর আগে বিকেল পাঁচটার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও এলাকায় চা–কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়। ওই গাড়িবহরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে হবিগঞ্জ পৌর শহরে বেলা ৩টায় সমাবেশের ডাক দেয় এনসিপি। একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। এরপরও হবিগঞ্জের দিকে রওনা হন এনসিপির নেতারা।

কামাইছড়া এলাকায় ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে পুলিশের বাঁধা
ছবি: প্রথম আলো

পুলিশের বাধা দিলে কামাইছড়া এলাকায় সড়কে বসে পড়েন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘হবিগঞ্জে আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছিল, গতকালকের হামলার প্রতিবাদে। আমাদের কয়েক দফা বাঁধা দেওয়া হয়েছে। বালুর ট্রাক, ট্রাক্টর এবং এখানে এসে পুলিশ সর্বশেষ আটকিয়ে রেখেছে এবং পেছনে ছাত্রদলের শত শত সন্ত্রাসীরা আছে। যেহেতু ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ বা সবকিছুর সহযোগিতা করে আমরা শুধু যাব। মামলা দায়ের করব, আহতদের দেখব, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমরা চলে আসব। প্রয়োজনে যতজন বলবে আমরা ততজন নিয়েই যাব। আমরা কোনো অশান্তি চাই না।’

এরপর বৃষ্টি নামে। কিন্তু এনসিপির নেতা–কর্মীরা সড়ক ছাড়েননি। বৃষ্টির পর সন্ধ্যা সাতটা পাঁচ মিনিটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, গতকালের হামলায় এনসিপির ৩০ জনের মতো নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। সেখানে প্রতিবাদ–মিছিল করার জন্য যাচ্ছিলেন। কিন্তু বার বার পুলিশ বাধা দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত পুলিশকে বলা হয়েছে, গতকালের ঘটনায় মামলা করার জন্য এবং আহতদের দেখার জন্য হবিগঞ্জে এনসিপির মাত্র পাঁচজন নেতা যাবেন। তাও যেতে দেওয়া হচ্ছে না।