ঢিল মারলে পাটকেল খেতে হয় জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আজ ক্ষমতায় আছেন, কাল থাকবেন না। কিন্তু রাজনীতির পরিবেশ নষ্ট করবেন না। অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে সে গর্তে নিজেকে পড়তে হয়।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করে হাবিব উন নবী খান বলেন, কোনো মুসলিম হিন্দুদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করলে কিংবা কোনো হিন্দু মুসলিমের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করলে আইনের কোনো কার্যকারিতা দেখা যায় না। যদি একটি বিশেষ পরিবারের কোনো সদস্য সম্পর্কে কিছু বলা হয়, তাহলে তাঁকে পরিবারসহ তুলে নিয়ে আসা হয়।

আগামী দিনের কর্মসূচির বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ হবে। ফরিদপুরে সফলভাবে এ সমাবেশ করতে হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা ওবায়েদ বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি দেশে একদলীয় সরকারপদ্ধতি বাকশাল কায়েম হয়েছিল। সে সময় দেশে কম্বল চোর, ব্যাংক ডাকাতিসহ এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ২০২৩ সালে আজকেও দেশে ঠিক সেই রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মো. আবু জাফর বলেন, ভবিষ্যতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ থেকে ঘরে ফিরে যাবে না বিএনপি। সমাবেশে বক্তৃতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কে এম কাইয়ুম প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী। উপস্থাপনা করেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া।

সমাবেশ শেষে নেতা-কর্মীদের একটি অংশ ফরিদ শাহ সড়কের পশ্চিম দিকে থানা রোড হয়ে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে মিছিল নিয়ে হাজির হন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সেখানে চেয়ারে দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম চৌধুরী।

গত ২৪ ডিসেম্বর দেশব্যাপী বিএনপির গণপদযাত্রায় ফরিদপুরে বাধা দেয় পুলিশ। জেলা কার্যালয়ের সামনে থেকে এ পদযাত্রা থানা রোড, মুজিব সড়ক হয়ে প্রেসক্লাব পর্যন্ত যাওয়ার কথা ছিল। তবে পুলিশের বাধায় বিএনপির ওই কর্মসূচি সফল হয়নি। ১১ জানুয়ারি ফরিদপুর শহরের অম্বিকা ময়দানে গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালনের জন্য বিএনপিকে অনুমতি দিয়েছিল প্রশাসন। সেখানে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা হেলমেট পরে মোটরসাইকেলে এসে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সমাবেশ পণ্ড করে দেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগে বলা হয়।