হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, ২০০৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার যাদবপুর ও হাতীবান্ধা ইউনিয়নের প্রতিটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য একজন করে চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়কের পদ সৃষ্টি হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ওই পদের বিপরীতে নিয়োগও দেয়। তবে ওই পদের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বাস্তবে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্থাপনা না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে যাদবপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কাগজে-কলমে চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে শারমিন সেলিম জ্যোতি ও উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা (স্যাকমো) মোস্তফা কামাল কর্মরত। ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়কের পদ শূন্য রয়েছে।

হাতীবান্ধা ইউনিয়নে চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে শামীমা আহমেদ ও উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা রাশিদা আক্তার কর্মরত। ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়কের দুটি পদ শূন্য রয়েছে।

দুটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চারজন চিকিৎসা কর্মকর্তা বর্তমানে প্রেষণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত।

যাদবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা কলেজশিক্ষক সরোয়ার আলম বলেন, ‘১৪ বছর ধরে আমাদের এলাকার মানুষের সেবার জন্য চিকিৎসক আছে অথচ আমরা তা জানি না। প্রয়োজন হলে জমি দেব তবুও আমরা হাসপাতাল চাই।’

হাতীবান্ধা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা শামীমা আহমেদ বলেন, ‘যে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য আমি নিয়োগপ্রাপ্ত, সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে পারলে ভালো লাগত। স্থাপনা না থাকায় ওই এলাকার মানুষদের সেবা না দিতে পেরে কষ্ট পাচ্ছি।’

উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমি ছয় বছর ধরে স্থাপনাবিহীন হাসপাতালে চাকরি করছি। এমনটা তো আমরা চাই না।’

যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ও হাতীবান্ধা ইউপির চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নে কাগজে-কলমে একটি করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে, এমন বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। ফলে ১৪ বছর ধরে দুটি ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা দুই চেয়ারম্যান প্রয়োজনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে দুটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্থাপনা নির্মাণের ব্যবস্থা করব।’

এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশেই স্থাপনাবিহীন অনেক হাসপাতাল রয়েছে। তবে সখীপুরে প্রতিটি ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমিদাতা পাওয়া গেলে হাসপাতালের ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।