বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের একটি কক্ষে টেবিলে পড়াশোনা করছিলেন এক শিক্ষার্থী। হঠাৎ ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে তাঁর ঘাড়ে। এতে আহত হয়ে সেখান থেকে তিনি সরে পড়েন। মুহূর্তেই আরেকটি টুকরা রডসহ খসে পড়ে একই স্থানে। তবে সরে পড়ায় সেটির আঘাত থেকে রক্ষা পান ওই শিক্ষার্থী।
গতকাল সোমবার রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের ১০৯ নম্বর কক্ষে ঘটে এ ঘটনা। ওই শিক্ষার্থীর নাম হাবিব উল্লাহ মিজবাহ। তিনি মানবসম্পদ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হলের মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থার কারণে প্রায়ই তাঁরা এ ধরনের অসুবিধায় পড়ছেন। ঝুঁকি নিয়ে হলে থাকতে হচ্ছে তাঁদের। হল কর্তৃপক্ষের দাবি, হলের জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। হলের বাজেট পর্যাপ্ত নয়, যে কারণে সংস্কার কার্যক্রম সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হাবিব উল্লাহ মিজবাহ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথমে যে পলেস্তারাটি খসে পড়েছে, সেটি আকারে কিছুটা ছোট। পড়ার সময় সেটি আমার ঘাড়ে এসে পড়ে। পরের টুকরাটি বেশ বড়, সঙ্গে রডও যুক্ত ছিল। আমি যদি সরে না যেতাম, সেটি আমার মাথায় পড়ত। বিষয়টি আমি হল প্রভোস্টকে জানিয়েছি।’
জানতে চাইলে শাহজালাল হলের প্রভোস্ট ফুয়াদ হাসান বলেন, ‘হলের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি আগেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। হলটি বসবাসযোগ্য কি না, তা যাচাই করতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে আমরা হলের অনেক কক্ষ বরাদ্দ দিতে চাইনি। তবে আবাসন সংকটের কারণে বরাদ্দ দিতে হয়েছে।’
ফুয়াদ হাসান আরও বলেন, জরাজীর্ণ জায়গাগুলো তালিকা করে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে; কিন্তু হলের বাজেট পর্যাপ্ত নয় এবং সংস্কারের জন্য আলাদা বরাদ্দও থাকে না, এটি প্রকৌশল দপ্তরের কাজ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৪টি আবাসিক হলে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী থাকার সুযোগ রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। ফলে আবাসন–সংকট দীর্ঘদিন ধরেই প্রকট আকার ধারণ করেছে।