খুলনা-১ আসন
প্রচারে সরব জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দী, হিন্দুদের নিরাপত্তা ও চাঁদাবাজিমুক্ত এলাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি
হিন্দু-অধ্যুষিত খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসনে এবারের নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের আটজন প্রার্থী মাঠে আছেন। জামায়াতে ইসলামী প্রথা ভেঙে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সাবেক সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে এখানে প্রার্থী করেছে। ইতিমধ্যে ভোটারদের মন জয়ে তিনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি হিন্দুদের নিরাপত্তা ও চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
দাকোপ ও বটিয়াঘাটার বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় কৃষ্ণ নন্দীর নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে। প্রচারণায় দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা মাঠে আছেন। তিনি নিয়মিত হিন্দুদের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে মন্দির, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নের কথা তুলে ধরছেন। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেও প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।
টানা প্রায় তিন দশক ধরে খুলনা-১ আসনে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থীরাই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এ আসনে জামায়াতসহ মোট ছয়টি রাজনৈতিক দল হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন আরও দুজন হিন্দু প্রার্থী।
আজ বৃহস্পতিবার বটিয়াঘাটা বাজারে কৃষ্ণ নন্দীর নির্বাচনী জনসভা হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এর আগে গতকাল বুধবার সকালে বটিয়াঘাটায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কৃষ্ণ নন্দী। বিকেলে সুন্দরবন-সংলগ্ন দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নের নলিয়ান ঈদগাহ মাঠে আরেকটি নির্বাচনী জনসভা করেন।
সভায় কৃষ্ণ নন্দী বলেন, ‘আমি চাঁদাবাজিকে ঘৃণা করি। আমি নির্বাচিত হলে দাকোপ-বটিয়াঘাটার হিন্দুদের বুকের মধ্যে রাখব। জামায়াত ক্ষমতায় এলে সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যার বিচার আমরা করব। শত্রু সম্পত্তির বিষয় নিয়ে আমরা কী করব, সেটা আপনারাই তখন বুঝতে পারবেন।’
গত ২৭ জানুয়ারি খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস ময়দানে জামায়াত আমিরের উপস্থিতিতে জনসভায় কৃষ্ণ নন্দী বলেন, ‘হিন্দুদের বলা হয় যে জামায়াতে ইসলাম আসলে হিন্দুরা এ দেশে আর থাকতে পারবে না। কেন এই অপপ্রচার করা হয় জানি না। তবে জামায়াত এবার ক্ষমতায় আসলে মুসলমানরা হিন্দুদের এই দেশে জামাই আদরে রাখবে। একজন হিন্দুকেও ইন্ডিয়া যাওয়া লাগবে না। জামায়াতে ইসলামী কখনো টাকা দিয়ে ভোট কেনে না। অনেকে চাঁদাবাজির টাকা দিয়ে নির্বাচন করতে এসে বস্তার মুখ খুলে দিচ্ছেন। টাকায় আর মানুষ বিক্রি হবে না।’
গত সোমবার দাকোপ উপজেলার বানীশান্তা ইউনিয়নের এক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন কৃষ্ণ নন্দী। এতে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেন, আমি একজন হিন্দু মানুষ হয়ে কেন জামায়াতে ইসলামীতে আসলাম। জামায়াত ন্যায়ের দল, সততার দল। আমি বলতে চাই, আপনারা আমাদের পাশে থাকুন, আপনারা আমাদের পাশে সুরক্ষিত থাকবেন। কোনো হিন্দুর গায়ে আঁচড় লাগবে না। জামায়াতের পাশে থাকলে আপনাদের লাঞ্ছিত হতে হবে না, চাঁদা দিতে হবে না।’
সম্প্রতি প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকার জনগণকে সুখে-শান্তিতে রাখবেন। অবহেলিত রাস্তাঘাট উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও বেকারত্ব দূর করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। তাঁর দাবি, দাকোপ-বটিয়াঘাটার হিন্দুরা চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজদের উৎখাত করব। ক্ষমতায় আসতে পারলে পরের দিনই মাদক অর্ধেক নির্মূল হয়ে যাবে।’
কৃষ্ণ নন্দীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও বটিয়াঘাটা উপজেলার আমির শেখ আবু ইউসুফ প্রথম আলোকে বলেন, দলীয়ভাবে আসনটির প্রতিটি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালানো হচ্ছে। দলীয় নীতির পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা এবং এলাকার সংকট তুলে ধরে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। জয়ের বিষয়ে তাঁরা ভীষণ আশাবাদী।