কটূক্তির অভিযোগে প্রক্টর ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ দাবি ছাত্রদলের

প্রশাসনিক ভবনের সামনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিলছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ছাত্রদল।

ছাত্রদল সম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের কটূক্তির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল আজ মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলে করে। বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে সমবেত হন। সেখানে সমাবেশে বক্তারা বলেন, আগামীকাল বুধবার বেলা একটার মধ্যে প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে ছাত্রদল এবং শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় ওই সময়ের মধ্যে তাঁদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘গতকাল প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে চাকসু নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকার দাবি জানাই আমরা। কিন্তু পরে রেজিস্ট্রার গণমাধ্যমে এবং প্রক্টর ফেসবুকে ছাত্রদলকে নিয়ে মন্তব্য করেন। এ ঘটনায় আজ বিক্ষোভ সমাবেশ করে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। ক্ষমা না চাইলে আমরা কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেব।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘রেজিস্ট্রার ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের অছাত্র বলে মন্তব্য করেছেন আর প্রক্টরের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষী আচরণ ও একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু চাকসু নির্বাচন সম্ভব নয়। আমরা এ ব্যাপারে সহ–উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক কামাল উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেছি। আগামীকাল বেলা একটার মধ্যে ক্ষমা চাইতে বা পদত্যাগ করতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন তখনই আসে যখন ভুল হয়। যদি তারা আমার ছাত্র হতো, তাহলে সরাসরি কথা বলত। আমি কোনো কমিটির সদস্য নই, তাহলে আমার অব্যাহতি চাইবে কেন? আমি শুধু বলেছি, তারা যদি প্রকৃত ছাত্র হতো, তাহলে চাকসু সম্পর্কে জানত। এখন তারা রাজনৈতিকভাবে ভাবতে চাইলে সেটা তাদের ব্যাপার।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে কখনো পক্ষপাতমূলক আচরণ হয়নি বা কারও মুখপাত্র হিসেবে কাজ করিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে আইন মেনে নিরপেক্ষ থেকেছি। চাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সচিব পদ থেকে আমি দুই মাস আগে পদত্যাগ করেছি। ছাত্রদলের কর্মসূচিতেও আমি অতিথি হিসেবে ছিলাম। নারীবিদ্বেষী চাকসু নীতিমালার বিষয়ে অভিযোগ তুলতে হলে কেবল দুজন নয়, সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার দাবি করা উচিত ছিল। আর ফেসবুকে ছাত্রদলের নামে আমি কোনো মন্তব্য করিনি।’