default-image

ক্লিনটন মজুমদার মঠবাড়িয়া উপজেলা উত্তর মিঠাখালী গ্রামের বাসিন্দা অরূপ মজুমদারের ছেলে। ২০১২ সালের ৮ মে সন্ধ্যায় তিনি খুন হন। এদিকে আবদুল্লাহ আল মারজান মঠবাড়িয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার নাচনাপাড়া গ্রামের হায়দার মিয়ার ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ক্লিনটন মজুমদারের বাবা অরূপ মজুমদার বলেন, ২০১২ সালের ৮ মে সন্ধ্যায় ক্লিনটন মজুমদারকে পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যা করা হয়। আবদুল্লাহ আল মারজানসহ ৮ থেকে ১০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল ক্লিনটনকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেয়। ঘটনার দুই দিন পর উপজেলার কালীরহাট এলাকায় বড়মাছুয়া খাল থেকে ক্লিনটনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১০ মে তিনি বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে স্থানীয় থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আবদুল্লাহ আল মারজানসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বর্তমানে মামলাটি পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।

সংবাদ সম্মেলনে অরূপ মজুমদার অভিযোগ করে বলেন, ‘একসময়ের ছাত্রদল কর্মী আবদুল্লাহ আল মারজান বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ওই পদ থেকে অব্যাহতির দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি ক্লিনটন হত্যার বিচার দাবি করছি।’

অরূপ মজুমদার আবদুল্লাহ আল মারজানকে মাদক ব্যবসায়ী দাবি করে বলেন, ‘সাবেক ছাত্রদল কর্মী ও ইয়াবা ব্যবসায়ী মারজান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটিতে সুকৌশলে ঢুকে আমাদের হুমকি প্রদর্শন করছেন। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে আবদুল্লাহ আল মারজান মুঠোফোনে বলেন, ‘ক্লিনটন হত্যার সময় আমি নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলাম। আমি কখনো ছাত্রদল করিনি। আমার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে। আমার মা লুৎফা বেগম পাথরঘাটা উপজেলার নাচনাপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। ২০১৯ সাল থেকে আমি কাকচিড়া সাংগঠনিক থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আছি। জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পাওয়ায় একটি মহল আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করছে।’

মামলা প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ আল মারজান বলেন, ক্লিনটন হত্যা মামলার আসামিরা তাঁর সহপাঠী ছিলেন। এ কারণে ওই মামলায় তাঁকে জড়ানো হয়েছে। পুলিশ প্রথমে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। সেখানে তাঁর নাম না থাকায় বাদী আদালতে নারাজি দেন। এরপর দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর নাম অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করে পুনরায় অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, আবদুল্লাহ আল মারজান হত্যা মামলার আসামি, সেটা তিনি জানতেন না। তবে বিষয়টি জানার পর সংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন