ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস ফিল্ডস স্কুল থেকে বৃত্তি পেয়েছে ৬৮ শিক্ষার্থী, জেলায় সেরা
দীর্ঘ অনেক বছর পর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। হাতে সময় বেশি ছিল না। শিক্ষার্থীদের মনে ছিল সংশয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে পড়াশোনার বিষয়ে সাহস জুগিয়েছেন শিক্ষকেরা। বিশেষ ক্লাস, সাপ্তাহিক পরীক্ষা, বৃত্তি পরীক্ষার আদলে মডেল টেস্ট, স্বল্প সময়ে উত্তর লেখার কৌশল প্রয়োগে এসেছে সাফল্য। ৬৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। জেলায় হয়েছে সেরা।
এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস স্কুল অ্যান্ড কলেজের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলের চিত্র। জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেরা হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। মেধা বৃত্তি পেয়েছে ৩৪ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৩৪ জন। জেলায় সেরা হতে পেরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকেরা উচ্ছ্বসিত।
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস স্কুল অ্যান্ড কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ছিল ২৯২ জন। এর মধ্যে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছিল ১১৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১১৪ জন। বৃত্তি পেয়েছে ৬৮ জন। সদর উপজেলায় বৃত্তি পেয়েছে ৪৬৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে মেধা বৃত্তি পেয়েছে ১১৫ জন ও সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ২৪৮ জন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা আনন্দ উদ্যাপন করছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা তাদের সঙ্গে উপস্থিত আছেন।
মেধা বৃত্তি পাওয়া সাবিকাহ বিনতে মারুফ, জেরিন আক্তার, সাফওয়াত তাহালা, মোহনা আক্তার, আয়েশা তোফা, লুবাবা মাহফুজাহ বলে, বিশেষ ক্লাস, সংক্ষিপ্ত সাজেশন ও শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই ফলাফল এসেছে। শিক্ষকদের অনুপ্রেরণার কারণে তাদের মন থেকে পরীক্ষার আতঙ্ক ও অস্থিরতা দূর হয়েছে। শিক্ষকেরা সব সময় সাহস জুগিয়েছেন। তারা এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সবার দোয়া চান।
সাবের আল হাসান নামের আরেক শিক্ষার্থী বলে, ‘জানতাম না বৃত্তি পরীক্ষা হবে। তিন মাস আগে জানতে পারলাম। শিক্ষকেরা নিজ উদ্যোগে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়েছেন। পাঠ্যবইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং সব সমস্যায় পাশে ছিলেন। অনেকেই বলছিল গণিত ও বিজ্ঞান অনেক কঠিন হয়েছে। কিন্তু আমাদের ভালো হয়েছে।’
প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষক তাসনিমা রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শেষের তিন মাসে নিয়মিত সাপ্তাহিক পরীক্ষা, পরীক্ষার নম্বর ও অনুপস্থিতি বিষয়টি অভিভাবকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেওয়া হতো। স্বল্প সময়ের মধ্যে সব উত্তর লিখতে শিক্ষার্থীদের অভ্যস্ত করানোর কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে। সেটি তারা রপ্ত করতে পেরেছে। প্রতিটি পরীক্ষার দিন কেন্দ্রের বাইরে শিক্ষকেরা উপস্থিত থেকেছেন। এটি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেছে।
জুনিয়র স্কলারশিপ বিশেষ ক্লাস পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০০৪ সালে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা। ২০১১ ও ২০১২ সালেও আমরা জেলায় প্রথম হতাম এবং বোর্ডে সেরা ২—এর মধ্যে অবস্থান থাকত। পরে ঘাটতি হয়েছে। তিন মাস আগে বৃত্তি পরীক্ষার ঘোষণা আসে। আমরা পারব কি না শিক্ষার্থীরা সংশয়ে ছিল। আমরা তাদের সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছি। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বিশেষ ক্লাস করিয়েছি। অধ্যক্ষ সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেছেন।’
অধ্যক্ষ মোহাম্মদ কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট মেধাবী। তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পড়াশোনা করেছে। বাড়ির কাজ সম্পন্ন করেছে। অভিভাবকরাও সচেতন ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের গণিত, ইংরেজি, বাংলা ও বিজ্ঞানের অভিজ্ঞ ও পরিশ্রমী শিক্ষকেরা নিষ্ঠার সঙ্গে পরিশ্রম করেছেন। বৃত্তি পরীক্ষার আদলে তাঁরা মডেল টেস্ট নিয়েছেন। এসব কারণেই সফলতা এসেছে।