বিএনপি–অধ্যুষিত নোয়াখালী থেকে মন্ত্রী হননি কেউ

নোয়াখালী -১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন, নোয়াখালী–২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, নোয়াখালী–৩ আসনের সংসদ সদস্য বরকত উল্যাহ বুলু, নোয়াখালী–৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামছবি সংগৃহীত

বিএনপি–অধ্যুষিত জেলা নোয়াখালী থেকে কাউকে মন্ত্রী না করায় হতাশ দলের নেতা-কর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে সরব তাঁরা।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিপরিষদ শপথ নেওয়ার পর বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ১০ জন নেতা এ নিয়ে প্রথম আলোর কাছে প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁদের বেশির ভাগই বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালীতে ভালো ফল করেছে বিএনপি। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা জয় পেয়েছে। এ কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধারণা জন্মায়—এবার জেলার নির্বাচিতদের মধ্য থেকে দু–একজন মন্ত্রিপরিষদে ঠাঁই পেতে পারেন। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি শেষ পর্যন্ত।

গতকাল সোমবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোয়াখালীর একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার মন্ত্রী হওয়ার গুঞ্জন ওঠে। বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের পর থেকে বিগত আওয়ামী লীগের আমলে হওয়া তিনটি একতরফার নির্বাচন ছাড়া বাকি সব কটি নির্বাচনেই জেলার বেশির ভাগ সংসদীয় আসন ছিল বিএনপির দখলে, বিশেষ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনে যখন বিএনপির ভরাডুবি হয়, তখনো নোয়াখালীর ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে জয় পায় বিএনপি। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জিতেন বিএনপির প্রার্থীরা। একটি আসনে (নোয়াখালী-৬) বিএনপির প্রার্থী হেরেছেন মূলত দলের বাইরে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এবং দলের মধ্যে অনৈক্যের কারণে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো প্রথম আলোকে বলেন, ‘হৃদয়টা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত। আমাদের প্রতি সুবিচার করা হয়নি। এখানকার নেতা–কর্মীদের অনেক ত্যাগ। তাই একটা সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। আশায় ছিলাম, আমাদের জেলা থেকে মন্ত্রী করা হবে, কিন্তু সেটি হলো না।’

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হন। তাঁরা হলেন নোয়াখালী-১ আসনে এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ আসনে জয়নুল আবদিন ফারুক, নোয়াখালী-৩ আসনে বরকতউল্লা বুলু, নোয়াখালী-৪ আসনে মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। একমাত্র নোয়াখালী-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হন এনসিপির প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের কাছে।

নোয়াখালীতে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে সর্বোচ্চ ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নোয়াখালী-২ আসনের জয়নুল আবদিন ফারুক। এ ছাড়া পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নোয়াখালী-৩ আসনের বরকতউল্লা বুলু ও নোয়াখালী-৪ আসনের মো. শাহজাহান। নোয়াখালী-২ আসনের মাহবুব উদ্দিন খোকন দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হন। আর প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নোয়াখালী-৫ আসনের মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।