শ্রীপুরে কারখানায় শ্রমিক সরবরাহ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ

গাজীপুরের শ্রীপুরে নেসলে কারখানার সামনে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টা ধাওয়া ও দেশি অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকেছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

গাজীপুরের শ্রীপুরে নেসলে কারখানায় শ্রমিক সরবরাহকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দেশি অস্ত্রের মহড়া ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর এলাকার ওই কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর জেলা যুবদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সরকারের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। দুই পক্ষের লোকজনের হাতেই লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন সেখান থেকে সরে যান। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ সম্পর্কে নজরুল ইসলাম বলেন, জাহাঙ্গীর সিকদার, জনিসহ তাঁরা চারজন কারখানা কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারখানার শ্রমিক সরবরাহের কাজ করছেন। আজ শ্রমিক নিয়ে কারখানার প্রধান ফটকে গেলে গাজীপুর সদর উপজেলা ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাউদ্দীন সরকারের লোকজন এসে বাধা দেন। এ সময় তাঁদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। এতে তাঁদের চারজন শ্রমিক আহত হন।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে সালাউদ্দিন সরকার তাঁর ছেলে মাসুম সরকারের সঙ্গে নেসলে কোম্পানির লিখিত চুক্তি আছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক সরবরাহ করে আসছেন তাঁরা। কিন্তু মঙ্গলবার হঠাৎ নজরুল ইসলামের লোকজন এসে এই কাজে বাধা দেন। জোরপূর্বক তাঁরা শ্রমিক সরবরাহ করতে চান। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের লোকজন হামলা চালান। পরিস্থিতি সামাল দিতে গাজীপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ইউনুস আলী ও পুলিশ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। এরপর হামলাকারীরা চলে যায়।

সালাউদ্দিন সরকার অভিযোগ করেন, নজরুল ইসলাম বেশ কিছুদিন ধরেই জোরপূর্বক চুক্তি না থাকা সত্ত্বেও শ্রমিক সরবরাহ কাজ দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শ্রীপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছি। একটি দলের দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়েছিল। আজ সন্ধ্যা নাগাদ থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি।