দৌলতপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক মুর্শিদ কামাল, সদস্যসচিব শেখ ইমাম
দীর্ঘ ১৪ বছর পর ভোট দিয়ে খুলনার দৌলতপুর থানা বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচন করেছেন থানার ছয়টি ওয়ার্ডের নেতারা। ভোটে মো. আবু মুর্শিদ কামাল আহ্বায়ক এবং শেখ ইমাম হোসেন সদস্যসচিব নির্বাচিত হয়েছেন।
রোববার বিকেলে খুলনা সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে দৌলতপুর থানা বিএনপির কর্মিসভা হয়। এ কর্মিসভার শেষে নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সূত্র জানায়, আজ বিকেল পাঁচটায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বেগম রেহানার সভাপতিত্বে কর্মিসভা শুরু হয়। সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পাঁচ ওয়ার্ড ও আড়ংঘাটা ইউনিয়নের মোট ১৮৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৪৭ জন ভোট দেন। এতে ১৩৯ ভোট পেয়ে আহ্বায়ক নির্বাচিত হন মো. আবু মুর্শিদ কামাল। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহজী কামাল পেয়েছেন পাঁচ ভোট। সদস্যসচিব পদে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় শেখ ইমাম হোসেনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
নগর বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ বছর খুলনা নগরে বিএনপির পাঁচটি সাংগঠনিক থানায় কোনো সম্মেলন হয়নি। ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর খুলনা মহানগর বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনের আগে থানার কমিটিগুলো করা হয়েছিল। ২০২১ সালের ২৫ ডিসেম্বর খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল নগর বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভায় সম্মেলনের মাধ্যমে এ পাঁচটি থানায় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কেন্দ্রের নির্দেশনায় পরে এতে সংশোধনী আনা হয়। সে অনুযায়ী, নগর বিএনপিতে যেহেতু আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে, তাই থানাগুলোতে আহ্বায়ক কমিটি করার সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য কর্মিসভায় ভোটের মাধ্যমে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব নির্বাচিত করা হচ্ছে।
কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুণ্ডু প্রথম আলোকে বলেন, লুটেরা সরকারের আমলে আর কোনো ভোট নয়। নির্দলীয়–নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকার যদি নির্দলীয়–নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মেনে না নেয়; তাহলে নির্বাচন ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেওয়া হবে।
দৌলতপুর থানা সাংগঠনিক দলের প্রধান স ম আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও আবুল কালামের সঞ্চালনায় কর্মিসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান। কর্মিসভা উদ্বোধন করেন খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম। প্রধান বক্তা ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব শফিকুল আলম। এতে নগর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।