জেলে রাসেল হাওলাদার বলেন, মেঘনায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও উত্তাল নদীতে বেশি মাছ পাওয়া যাবে—এমন আশায় তাঁরা নদীতে জাল ফেলেন। ওই সময় তাদের প্রতিবেশী মাইনু মোল্লার নৌকার তলা ফেটে যায়। ওই নৌকাটি তাঁদের নৌকার সঙ্গে বাঁধা ছিল। এরপর হঠাৎ করে ঝোড়ো হাওয়ায় তাঁদের নৌকাটিও উল্টে যায়। এতে তাঁরা সবাই নদীতে পড়ে যান। পরে পাশের একটি নৌকা এসে তাঁদের উদ্ধার করে। কিন্তু তিনজনকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ জেলে লিটন ব্যাপারীর পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন। তাঁর স্ত্রী মারুফা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী ঝড়ের মধ্যে নদীতে যেতে চাননি। কিন্তু আগে মহাজন রাসেল ব্যাপারীর কাছ থেকে অগ্রিম ৫০০ টাকা নেওয়ায় তিনি মাছ ধরতে যেতে বাধ্য করেন। সোমবার থেকে চার দিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ নেই।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. লিটন গাইন প্রথম আলোকে জানান, দুটি নৌকায় করে এলাকার লোকজন মেঘনার বিভিন্ন স্থানে নিখোঁজ তিনজনকে খুঁজছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিপন বড়ুয়া বলেন, লিটনের বাবা আবুল কাশেম থানায় জিডি করেছেন। তাদের খোঁজার জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে পুলিশ।

রায়পুর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে আমরা কোস্টগার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আশপাশের মৎস্য বন্দরগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত আছে।’