ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্তত চারজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিন গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হন। কর্মী সম্মেলনে ওই প্রসঙ্গ টেনে বিরূপ মন্তব্য করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক। এতে নাসিরের কর্মী-সমর্থকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ইটপাটকেল ও চেয়ার-ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। পরে সম্মেলনে উপস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বক্তব্য দেওয়ার সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি কিছু খোঁচা মেরে বক্তব্য দেন। এ নিয়ে পরে উত্তেজনা তৈরি হলে চেয়ার-ছোড়াছুড়ি হয়। পরে মারামারি আরও বড় রূপ নিলে সম্মেলন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান শামসুল ইসলাম। আর সম্মেলনের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান তিনি।

জানতে চাইলে শম্ভুপুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আমি কেবল আমার বক্তব্যে গত নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর হারার প্রসঙ্গ তুলে ধরেছি। এ নিয়ে নাসির উদ্দিনের লোকজন হামলা শুরু করে। এই সময় জান্নাত ব্যাপারী, সোহেল, আরিফ, আরমান, শরীফ, আল আমিন, রাজিম, নাজমুল ও শামীমসহ অন্তত ২০ জন আহত হইছে।’ আর নাসির উদ্দিন বলেন, ‘উসকানিমূলক বক্তব্য দেন উনি। এ নিয়ে কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কথা-কাটাকাটির সময় আবু বকরের লোকজন আমার কর্মীদের মারধর শুরু করেন। এতে আনিছুর রহমান শামীম, নজরুল ইসলাম, বাবু মোল্লা, জাহাঙ্গীর, মিন্টু, সুজন, মোয়াজ্জেম, শহীদ ও বাবলুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।’

উভয় পক্ষের আহত লোকজন মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান নেতারা। উভয় পক্ষই এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেবেন বলে জানান।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ বলেন, বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীর মধ্যে মারামারি হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে সেখানে আরও পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কারও লিখিত অভিযোগ পাননি বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।