কোনো কোনো দল আছে, দেশের মানুষকে ধোঁকা দিতে চায়: চৌদ্দগ্রামে তারেক রহমান

বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশে উপস্থিত জনতার একাংশ। রোববার সন্ধ্যায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সদরের এইচ জে সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠেছবি: প্রথম আলো

কোনো কোনো রাজনৈতিক দল দেশের মানুষকে ধোঁকা দিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সদরের এইচ জে সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা কতগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি দেশের মানুষের জন্য, যেগুলো আমরা সফল করতে চাই। দুই দিন ধরে আমাদের পরিকল্পনাগুলোর কথা আমি বারবার বলছি। কারণ, বিএনপি সরকার গঠন করলে আমাদের দল সেই পরিকল্পনাগুলো সফল করতে চায়। কিন্তু কোনো কোনো দল আছে, দেশের মানুষকে ধোঁকা দিতে চায়। আচ্ছা, দেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়ে কোনো লাভ আছে? আমরা তো রাজনীতি করি, দিন শেষে সেই দেশের মানুষের কাছেই ফিরে আসতে হবে। বিএনপি আল্লাহর রহমতে কয়েকবার দেশ পরিচালনা করেছে। দেশ পরিচালনায় বিএনপি একটি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দল। তাই কোনো পরিকল্পনা করে সেটা কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হয়, বিএনপি তা ভালো করে জানে।’

সমাবেশে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার রাত ৯টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সদরের এইচ জে সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে
ছবি: প্রথম আলো

রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় চৌদ্দগ্রাম উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও তারেক রহমান এসে পৌঁছান রাত ৮টা ২০ মিনিটে। সমাবেশস্থলে প্রবেশ করে শুরুতে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতের প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এ জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ভোটাররা। এমন পরিস্থিতির মধ্যে চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী সমাবেশ করলেন তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমরা সরকার গঠন করলে প্রতিটি ঘরে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড দেব, সেখানে আমাদের মা-বোনদের আমরা প্রতি মাসে কিছু সহযোগিতা করব। আমরা কিন্তু একবারও বলিনি যে প্রতি মাসে যা যা লাগবে, তার সম্পূর্ণটাই দেব। আমরা বলেছি, সরকার থেকে আমরা অন্তত ৭ দিনের একটি সহযোগিতা গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষদের কাছে পৌঁছে দেব। আমরা এই কাজ করতে যাচ্ছি। আমরা একবারও বলিনি যে আমরা একেবারে সবাইকে একসঙ্গে দিয়ে দেব। আমরা বলেছি, এই কাজ আমরা ধীরে ধীরে করব। কারণ, সরকারের অর্থকড়ির ব্যবস্থা আছে, অল্প অল্প করে আমরা এগোব।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘যেহেতু একটি রাজনৈতিক সরকারের মেয়াদ থাকে পাঁচ বছর, আমরা চেষ্টা করব এই পাঁচ বছর যত বেশি সংখ্যক মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া যায়। এটাই একদম সোজাসাপটা কথা, এর মধ্যে কোনো মারপ্যাঁচ নেই। এখন যাঁরা বলছেন, তাঁদের হিংসা হচ্ছে। কারণ, তাঁরা মানুষের জন্য এমন ভালো কিছু উপস্থাপন করতে পারেননি। তাঁদের এমন আইডিয়া নেই। কারণ, তাঁদের তো দেশ পরিচালনায় অভিজ্ঞতা নেই। সে জন্যই তাঁরা আবোল-তাবোল কথা বলছেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা বলেছি, আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই। কৃষক ভাইদেরও আমরা একটি কৃষক কার্ড দিতে চাই। কেউ কেউ বলছেন, এটাও নাকি আমরা ধোঁকা দিচ্ছি। এখন ভাই দেখেন, ধোঁকা দিলে লস তো আমার। আপনাকে আমি ধোঁকা দিলে তো পরবর্তী সময়ে আপনি আমাকে আর বিশ্বাস করবেন না। আমাকে তো রাজনীতি করতে হবে। আপনাকে আমি যে জবান দিচ্ছি, সে জবান না রাখলে তো আপনি আমাকে পরবর্তী সময়ে আর বিশ্বাস করবেন না। আমি যদি না পারি, তাহলে আপনারাও তো বুঝবেন যে আমি সেটা পারিনি। কিন্তু আমি যদি না করি; অর্থাৎ আমার জবানই যদি আমি না রাখি, তখন আপনারা আমাকে ধরতে পারবেন। এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আমরা সার, বীজ, কীটনাশক—এসব প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেব।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি চাইলে এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করতে পারতাম। কিন্তু আমি কোনো সমালোচনা করিনি কিংবা তাদের নামও নিইনি। কারণ, সামনে নির্বাচন, আমি কী করব না করব, দেশের মানুষ আমার থেকে সেটা জানতে চায়। আমি যদি এখন অন্য মানুষদের সম্পর্কে গিবত গাই, আপনার কি পেট ভরবে? আপনারা তো আমার কাছে জানতে চান, আমি ক্ষমতায় গেলে আমি কী করব। এটা দুইয়ে দুইয়ে চারের মতো সোজা হিসাব।’

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. কামরুল হুদার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মো. নাহিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বিএনপির নির্বাচনী সমন্বয়ক আমিন-উর-রশিদ (ইয়াছিন), কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা-৮ আসনের প্রার্থী জাকারিয়া তাহের, বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম।