খুলনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
খুলনায় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। এ ঘটনায় গতকাল রোববার রাতে থানায় মামলা হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পেশাজীবী সাংবাদিকদের সংগঠন প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনা গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অতীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি বলেও উল্লেখ করেন তাঁরা। একই সঙ্গে গত দুই দশকে খুলনা নগরের চার সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর, মানিক চন্দ্র সাহা, হারুনর রশিদ ও শেখ বেলাল উদ্দীন দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হওয়ার ঘটনা স্মরণ করে বক্তারা বলেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বর্তমান প্রজন্ম দেখতে চায় না।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ প্রেসক্লাবে ঢুকে পড়ে। প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রার্থী ও খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ারকে হুমকি এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও স্থানীয় সময়ের খবর পত্রিকার সম্পাদক তরিকুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের চিহ্নিত ব্যক্তিরা প্রেসক্লাবে ঢুকে সভাপতি প্রার্থীকে খোঁজাখুঁজি ও হুমকি দেন এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীকে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করেন। এতে আসন্ন ৩০ এপ্রিলের প্রেসক্লাব নির্বাচন হুমকির মুখে পড়েছে। তাঁদের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত। পুলিশের পক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিলম্ব হওয়ার কথা নয়। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদেরও খুঁজে বের করার দাবি জানানো হয়। কারা তাঁদের প্রেসক্লাবে পাঠিয়েছে, তা জনসমক্ষে আনার আহ্বান জানান বক্তারা।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক দলের কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য আশরাফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক। সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সদস্যসচিব রফিউল ইসলাম, সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলম, এস এম হাবিব, মোতাহার রহমান, মোস্তফা সরোয়ার, তরিকুল ইসলাম, এস এম জাহিদ হোসেন, এহতেশামুল হক, হাসান আহমেদ মোল্লা, হাসান হিমালয়, হেদায়েত হোসেন মোল্লা, মহেন্দ্রনাথ সেন প্রমুখ। এ ছাড়া কর্মসূচিতে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে এ ঘটনায় খুলনা সদর থানায় মামলা হয়েছে। রোববার রাতে প্রেসক্লাবের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দত্ত বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে রিপন আকন, গাউস, হালিম ও মিজান—চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০–২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সন্ধ্যা ছয়টা পাঁচ মিনিটের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রসহ বেআইনিভাবে প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন।
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।