কুষ্টিয়ায় ভোট চাওয়া নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের এলাহি কাণ্ড

কুষ্টিয়ায় খোকসাতে ভোট চাওয়া নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে উপজেলার জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের মাসিলিয়া বাজারেছবি: প্রথম আলো

এক বৃদ্ধের কাছে প্রথমে ভোট চান বিএনপির কর্মীরা। পরে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা ভোট চাইতে ওই বৃদ্ধের বাড়ি গেলে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় বাজারে সালিস বসান জামায়াত ও বিএনপির কর্মী–সমর্থকেরা। সালিসে কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের মাসিলিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

বিএনপির আহত ব্যক্তিরা হলেন জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক চাঁদ আলী ও তাঁর ছেলে নিজাম উদ্দিন (৪৫), ফুলবাড়িয়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে খাইরুল হাসান ও আবদুর রহমানের ছেলে তুহিন হোসেন (৩২)। তাঁরা খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া হাবিবুর রহমান নামের আরেক কর্মী বাড়িতে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।

জামায়াতে ইসলামীর আহত ব্যক্তিরা হলেন জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এস এম আবু দাউদ (৪০), ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মাসুম বিল্লাল (২২) ও উপজেলা ওলামা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইদুল ইসলাম (৩৩)। তাঁরা কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে আবদুর রহমান (৮০) নামের এক বৃদ্ধের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন বিএনপির কর্মীরা। তিনি বিএনপিতে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এরপর ওই বৃদ্ধের কাছে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা ভোট চাইতে গেলে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ নিয়ে আজ সকালে মাসিলিয়া বাজারে বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের কার্যালয়ে দুই দলের নেতারা সালিস বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তাঁরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের সাতজন আহত হন।

আহত বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘ওই মুরব্বি ধানের শীষে ভোট দিতে চেয়েছিলেন। আর জামায়াতের কর্মীরা তাঁর বাড়িতে ভোট চাইতে গেলে বাগ্‌বিতণ্ডা করেন। এ নিয়ে আজ সকালে সালিস চলছিল। বৈঠকে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। তখন জামায়াতের লোকজন পরিকল্পিতভাবে দেশি অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। এতে আমিসহ বিএনপির চারজন আহত হয়েছেন।’ তাঁর দাবি, খোকসা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে আহত জামায়াত নেতা এস এম আবু দাউদ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপির নেতা–কর্মীরা জামায়াতের নারীদের ভোটের প্রচারণায় বাধা দিয়েছেন। বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এ নিয়ে আজ সালিস চলছিল। সেখানে বিএনপির কর্মীরা অতর্কিতে হামলা চালিয়েছেন। এতে আমাদের তিনজন আহত হয়েছেন।’

অভিযোগ অস্বীকার করে খোকসা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। জামায়াত নাকি বিএনপি সংঘর্ষ সৃষ্টি করেছে, তা জানা যায়নি।’

এদিকে খবর পেয়ে আজ দুপুরে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত কর্মীদের খোঁজখবর নিতে যান কুষ্টিয়া–৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনকে বানচাল করতে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে এ হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন বলেন, বিএনপির নেতা–কর্মীরা ফেসবুকসহ বিভিন্নভাবে তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। নারীদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন। আজ আবার হামলা চালিয়ে তিনজনকে আহত করেছেন। তাঁরাও আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

খোকসা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশারফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দলের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় দলের কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।