‘সবই এখন স্মৃতি’, খাল-পুকুর হারিয়ে ঢাকার পথে বরিশাল

দখল–দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে ভাটার খাল। বরিশাল নগরের বান্দ রোড এলাকায়ছবি: সাইয়ান

বরিশালে নবগ্রাম নামে একটি খাল ছিল। ঝালকাঠির কালিজিরা নদী থেকে এই খাল শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কীর্তনখোলা নদীতে মিলেছিল। খালটিতে নৌকা চলত। ডিঙিনৌকায় করে সবজি নিয়ে বটতলা বাজারে আসতেন কৃষকেরা।

২০০২ সালে সড়ক দুই লেন করার জন্য খালটিকে ভরাট করে সিটি করপোরেশন। রাস্তাটির নাম দেওয়া হয় এম এ জলিল সড়ক। এখন একটু বেশি বৃষ্টি হলেই ওই সড়কে পানি জমে যায়।

বরিশাল শহরে একসময় ২৪টি খাল ছিল। এখন ৪টি খালে পানিপ্রবাহ আছে। বাকিগুলোর মধ্যে ৭টির অস্তিত্ব নেই, ১৩টি প্রায় মৃত। একের পর এক খাল বেদখল ও ভরাটের কারণে বরিশালের অবস্থা হয়েছে ঢাকার মতোই, বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে। সেই পানি সহজে নামে না।

বরিশাল শহরে চারটি খাল এখনো মোটামুটি টিকে আছে সাগরদী খাল, জেল খাল, আমানতগঞ্জ খাল ও মোহাম্মদপুর খাল।

শুধু জলাবদ্ধতা নয়, ঢাকার মতোই দিন দিন বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে বরিশাল। অপরিকল্পিতভাবে শহর বড় হচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে।

বরিশাল শহরে বেড়ে ওঠা কাজী মিজানুর রহমান প্রায় ৪৫ বছর ধরে প্রতিদিন ভোরে হাঁটেন। তিনি পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্রিন মুভমেন্ট’–এর সঙ্গে যুক্ত, নগরের প্রকৃতি রক্ষায় সোচ্চার। শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, একসময় সবুজ প্রকৃতি আর জালের মতো বিস্তৃত খাল-দিঘি মিলিয়ে অপার্থিব এক আবহ ছিল শহরে। এখন সবই স্মৃতি। শহরজুড়ে এখন উষ্ণতা আর ক্লান্ত এক পরিবেশ।

বরিশাল পুরোনো শহর। বরিশাল পৌরসভার গোড়াপত্তন হয়েছিল ১৫৭ বছর আগে—১৮৬৯ সালে। ১৮৭৬ সালে বরিশাল শহর মিউনিসিপ্যালিটিতে উন্নীত হয়। ২০০২ সালে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয় শহরটি। সিটি করপোরেশন বলছে, বরিশাল শহরের আয়তন এখন ৫৮ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ছয় লাখের বেশি। তবে শহর দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। যে যার মতো ঘরবাড়ি করছেন।

খাল দখল ও ভরাট

বরিশাল শহরে চারটি খাল এখনো মোটামুটি টিকে আছে সাগরদী খাল, জেল খাল, আমানতগঞ্জ খাল ও মোহাম্মদপুর খাল। ২০২৩ সালে সাগরদী খালটি খনন করা হয়। এটির অবস্থা ভালো।

নাপিতখালী, ভাটার, নবগ্রাম, চাঁদমারী, ভেদুরিয়া, কলাডেমা, সাপানিয়া, কাশীপুর, সোলনা, ভাড়ানি, পুডিয়ার খাল, উত্তর নবগ্রাম সাগরদী, ঝোড়াখালী, তাজকাঠি, চৌপাশা ও শোভারানী প্রভৃতি খালের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন।

অন্যদিকে জেল খালের অবস্থা ভালো নয়। কীর্তনখোলা নদী থেকে সাত কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের জেল খালটি মূল শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে। খালের হাটখোলা এলাকায় পতনমুখে দেখা যায়, কাঁচাবাজার, আড়তদারপট্টি ও মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের বর্জ্য ফেলতে ফেলতে খালটি সংকুচিত হয়ে গেছে। খালের মধ্যে দুই পাড়ে আরসিসি পিলার দিয়ে অসংখ্য ভবন তৈরি করা হয়েছে। নথুল্লাবাদ প্রান্তেও একই অবস্থা। এরপর কাউনিয়া থেকে মরকখোলা সেতু হয়ে দখলের বিস্তৃতি আরও বেশি।

রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, দখল ও দূষণে জেল খালও অস্তিত্ব সংকটে। পোর্ট রোড, বরিশাল নগর
ছবি: সাইয়ান

কাউনিয়া এলাকার জাহিদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি জীবন্ত খালকে এভাবে চোখের সামনে গলাটিপে মেরে ফেলা দেখে নিজেকে অপরাধী লাগে। এ কারণে নগরবাসীকে প্রতিবছর ব্যাপক জলাবদ্ধতায় ভুগতে হয়।

অন্যদিকে নাপিতখালী, ভাটার, নবগ্রাম, চাঁদমারী, ভেদুরিয়া, কলাডেমা, সাপানিয়া, কাশীপুর, সোলনা, ভাড়ানি, পুডিয়ার খাল, উত্তর নবগ্রাম সাগরদী, ঝোড়াখালী, তাজকাঠি, চৌপাশা ও শোভারানী প্রভৃতি খালের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘রান’-এর প্রধান নির্বাহী রফিকুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খাল উদ্ধার করে প্রবাহ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হলেও তা উপেক্ষিত। এ উদাসীনতা অব্যাহত থাকলে বরিশাল অচিরেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে।

পুকুর-দিঘি ভরাট করে অবকাঠামো

সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বরিশালে একসময় দুই হাজারের মতো পুকুর ও দিঘি ছিল। সেগুলোর বেশির ভাগ ভরাট করে নগরের বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে।
২০১১ সালে প্রণীত বরিশাল সিটির মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, নগরে সরকারি ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৩৬টি পুকুর ছিল। ভরাট হতে হতে এখন তা ২০০–এর নিচে নেমেছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) যৌথভাবে পরিচালিত একটি জরিপ বলছে, নগরে ব্যক্তিমালিকানাধীন ছোট-বড় মিলিয়ে দেড় হাজার পুকুরের অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রায় সব পুকুরই ভরাট হয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নগরের কাউনিয়ার মনসাবাড়ি এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি পুকুর ভরাট করা হয়। দুই বছর আগে নগরের হাসপাতাল রোডে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মা ও শিশুকল্যাণকেন্দ্র প্রাঙ্গণের একটি এবং কাশীপুরের সীতারামের দিঘি নামের আরেকটি শতবর্ষী জলাশয় ভরাট করা হয়। পরিবেশকর্মীদের প্রতিবাদ সত্ত্বেও সেগুলো রক্ষা করা যায়নি।

একইভাবে বরিশাল মডেল স্কুল ও কলেজ নির্মাণের সময় বিশাল দিঘি ভরাট করা হয়, যার সঙ্গে যুক্ত ছিল নাপিতের খাল। পুলিশ লাইনসের পুকুর অর্ধেক ভরাট করা হয়েছে। অশ্বিনীকুমার দত্তের বাসভবনের সামনের পুকুরটি ভরাট হতে হতে ছোট ডোবায় পরিণত হয়েছে। কাউনিয়ার পুকুর ভরাট করে স্কুল হয়েছে।

দখল দূষণে ভাটার খালের অবস্থা ভয়াবহ। বান্দ রোড, বরিশাল নগর
ছবি: সাইয়ান

চলতি বছরের জানুয়ারিতে নগরের রূপাতলী হাউজিং এস্টেট-সংলগ্ন লালার দিঘির একাংশ জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ভরাট করে প্লট তৈরির উদ্যোগ নেয়। লালার দিঘির মালিক জেলা প্রশাসন। এর আয়তন ছয় একর। দিঘিটি শতবর্ষী। গত মাসের মাঝামাঝিতে গিয়ে দেখা যায়, লালার দিঘির পশ্চিমাংশে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ বালু ভরাট করেছে।

গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের রূপাতলী হাউজিং এস্টেটের উপবিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দিঘির দক্ষিণ পাড়ে ১৯৭৭-৭৮ সালে অধিগ্রহণ করা তাদের ৫০ শতক জমি ছিল, যা ভেঙে দিঘির মধ্যে পড়েছে। ভরাট করে সেই জমি পুনরুদ্ধার করেছেন। যেহেতু এটা দিঘি নয়, দিঘির পাড়; তাই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নেওয়া হয়নি।

জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ ও বাংলাদেশ ওয়াটার অ্যাক্ট ২০১৩ অনুসারে জলাশয় ভরাট দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। বাপার বরিশালের সমন্বয়ক লিংকন বায়েন প্রথম আলোকে বলেন, লালার দিঘিতে কারও মালিকানা থাকলেও জলাশয়ের শ্রেণি পরিবর্তন করা আইনত সম্ভব নয়।

জলাবদ্ধতায় নাকাল নগরবাসী

খাল ও জলাশয় ভরাট হওয়ায় এক দশক ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। সঙ্গে কীর্তনখোলা নদীর জোয়ারের উচ্চতা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

নগরবাসীর দাবি, আগে পানি জমলেও দ্রুত নেমে যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। পানি সহজে নামে না।

নগরের আমির কুটির এলাকার বাসিন্দা শামীমা আক্তার বলেন, ‘বর্ষা হলে আমাদের এলাকায় পানি জমে খুব দুরবস্থা হয়। ঘর থেকে বের হতে পারি না।’

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিম্নমুখী

অতীতে বরিশালের বাসিন্দা পানির জন্য নির্ভর করত পুকুর ও খালের ওপর। এখন পুকুর কমে গেছে। যেসব পুকুর আছে, তার পানি ব্যবহারযোগ্য নয়। খালের পানি দূষিত। ফলে এখন পুরো নির্ভরতা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর।

সিটি করপোরেশনের পানি বিভাগের তথ্যমতে, নগরের ৩০টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন পানির চাহিদা ৫ কোটি ২৬ লাখ লিটার। বিপরীতে সিটি করপোরেশন থেকে মাত্র ২ কোটি ৪০ লাখ লিটার সরবরাহ করা হচ্ছে, যার পুরোটাই ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে তোলা হয়। এরপরও প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি লিটার পানির ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

নতুন পরিকল্পনায় নগর-সংলগ্ন অঞ্চল যুক্ত করে ৫৮ বর্গকিলোমিটার থেকে পরিসর বাড়িয়ে ১০৩ বর্গকিলোমিটার করা হয়েছে। অবশ্য এই ধরনের পরিকল্পনার কথা বহুদিন ধরেই বলা হচ্ছে। অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে শহর বাড়ছেই।
মো. বায়েজিদ, নগর-পরিকল্পনাবিদ

ঘাটতি পূরণে ব্যক্তিপর্যায়ে গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। সিটি করপোরেশনের হিসাবে এ সংখ্যা ৫ হাজার হলেও ২০২২ সালে বাপার এক গবেষণায় দেখা যায়, এমন নলকূপের সঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার। যদিও তা বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজারে পৌঁছেছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দুই দশক আগেও বরিশালে ৭৮০ থেকে ৮২০ ফুট এবং ৮৮০ থেকে ৯৩০ ফুট গভীরতায় সুপেয় পানি পাওয়া যেত। এখন ৯৫০ ফুট গভীরতা ছাড়া সুপেয় পানি পাওয়া যায় না।

জেল খালও অস্তিত্ব সংকটে। পোর্ট রোড, বরিশাল নগর
ছবি: সাইয়ান

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান তরফদার বলেন, অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে শহরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত সংকটে পড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে।

বাড়ছে তাপমাত্রা, কমেছে বৃষ্টি

কোনো শহরে যখন জলাশয় ও গাছপালা কমে, তখন গড় তাপমাত্রা বেড়ে যায়। বরিশালেও সেটি হচ্ছে।

‘তাপমাত্রা, বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহের গতি ও আপেক্ষিক আর্দ্রতার তথ্যের একটি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ’ শীর্ষক একটি গবেষণায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবদুল্লাহ সালমান দেখিয়েছেন, বরিশালে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৬০ বছরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে শূন্য দশমিক ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গবেষণাটিতে সামগ্রিকভাবে বৃষ্টি কমার তথ্য উঠে এসেছে। বছরে গড়ে বৃষ্টি কমেছে শূন্য দশমিক ১৮ মিলিমিটার হারে।

গবেষক আবদুল্লাহ সালমান প্রথম আলোকে বলেন, বরিশাল দ্রুত উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর দিকে যাচ্ছে, যেখানে তাপপ্রবাহ বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি

বরিশালকে পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত শহরে রূপ দিতে ২০১১ সালে একটি মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়। তিন ধাপে ২০৩০ সালের মধ্যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা ছিল, কিন্তু সময়সীমা শেষের দিকে এলেও অগ্রগতি খুবই কম।

শহরে আগে যে প্রাণ ছিল, এখন তা নেই। তবে অন্য শহরের তুলনায় এখনো কিছুটা স্বস্তি আছে এখানে। এখন বরিশালে যা আছে, তাকে যত্ন করে টিকিয়ে রাখতে হবে। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
অধ্যাপক শাহ সাজেদা, সরকারি ব্রজমোহন কলেজ

মহাপরিকল্পনার সময়সীমা শেষের দিকে হওয়ায় নতুন করে সমন্বিত একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর বরিশালের নগর-পরিকল্পনাবিদ মো. বায়েজিদ। তিনি বলেন, নতুন পরিকল্পনায় নগর-সংলগ্ন অঞ্চল যুক্ত করে ৫৮ বর্গকিলোমিটার থেকে পরিসর বাড়িয়ে ১০৩ বর্গকিলোমিটার করা হয়েছে।
অবশ্য এই ধরনের পরিকল্পনার কথা বহুদিন ধরেই বলা হচ্ছে। অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে শহর বাড়ছেই।

প্রাণ ছিল, এখন তা নেই

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট গ্রুপের গবেষণা বিভাগ ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) তৈরি করা ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচকে বলা হয়েছে, বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে বাসযোগ্যতার দিক দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দামেস্ক ও ত্রিপোলি শহরের পরেই রয়েছে ঢাকা। অন্যদিকে ঢাকা বায়ুদূষণের শীর্ষ তালিকায় রয়েছে। শব্দদূষণ অসহনীয়। পানির স্তর নামছে।


বরিশালে পরিস্থিতি ততটা খারাপ নয়। তবে বরিশাল ঢাকার পথেই হাঁটছে। ১৯৬৭ সাল থেকে বরিশাল শহরে বাস করেন সরকারি ব্রজমোহন কলেজের অধ্যাপক শাহ সাজেদা, যিনি জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতিও। তিনি আক্ষেপ করে প্রথম আলোকে বলেন, শহরে আগে যে প্রাণ ছিল, এখন তা নেই। তবে অন্য শহরের তুলনায় এখনো কিছুটা স্বস্তি আছে এখানে। এখন বরিশালে যা আছে, তাকে যত্ন করে টিকিয়ে রাখতে হবে। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।