ফরিদপুরে ছাত্রলীগের এক পক্ষের সংবাদ সম্মেলনের পর আরেক পক্ষের সমাবেশ
ফরিদপুরে সন্ত্রাসী হামলায় ছাত্রলীগ কর্মী সবুজ মোল্লা নিহতের ঘটনার পর সৃষ্ট বিরোধের জেরে জেলা ছাত্রলীগের এক পক্ষের সংবাদ সম্মেলনের পর আরেক পক্ষ সমাবেশ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফাহিম আহমেদ। সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরপরই বেলা একটার দিকে প্রেসক্লাবের সামনের চত্বরে সমাবেশ করেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি কাওসার আকন্দের অনুসারীরা।
গত ৪ জুলাই শহরতলীর বিল মাহমুদপুরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন ছাত্রলীগ কর্মী সবুজ মোল্লা। এ হত্যার সঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুর রশিদ চৌধুরী সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তামজিদুর রশিদ চৌধুরী আত্মগোপন করেন। ওই সময় সভাপতি তামজিদুর রশিদ ও সম্পাদক ফাহিম আহমেদের নেতৃত্বে দুটি দলে ভাগ হয়ে যায় জেলা ছাত্রলীগ।
ওই হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে আসেন তামজিদুর। ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের মিলনায়তনে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের জেরে ১৮ সেপ্টেম্বর সভাপতির সমর্থক সৌরভ মালোকে (২৪) কুপিয়ে জখম করা হয়। তবে এর মধ্যে সভাপতি ও সম্পাদকের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান হয়। এ অবস্থায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি কাওসার আকন্দ ছাত্রলীগের আরেক অংশের নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ও সরকারি ইয়াছিন কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ওই দিন রাতে সদর উপজেলা কমিটি ভেঙে ওই দুই নেতার স্বাক্ষরে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এর প্রতিবাদে ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে মুজিব সড়কে মাননবন্ধন কর্মসূচি পালন করে কাওসার আকন্দের নেতৃত্বাধীন অংশ। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সাধারণ সম্পাদক ফাহিম সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ফাহিম।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘২৭ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে বলা হয়েছে, আমি নাকি বিবাহিত। আমি বলতে চাই, আমি অবিবাহিত। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে আমি বিবাহিত, তাহলে আমি স্বেচ্ছায় এ পদ থেকে পদত্যাগ করব।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সদর উপজেলা কমিটির মেয়াদ বহু আগে চলে গেছে। এ অবস্থায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. মাসুম মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আফিদ বিন ইসলাম, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সভাপতি শাহীন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বেলা পৌনে একটার দিকে জেলা ছাত্রলীগের এ অংশের নেতা–কর্মীরা প্রেসক্লাব থেকে বের হওয়ার পরপরই কাওসার আকন্দের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের অপর অংশ প্রেসক্লাবের সামনে এসে জড়ো হয়। এ সময় প্রেসক্লাব চত্বরে ছাত্রলীগের দুই কর্মী অর্ঘ্য চক্রবর্ত্তী ও শুভ মজুমদারকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। অর্ঘ্য ও শুভ—দুজনেই সভাপতি–সাধারণ সম্পাদকের সমর্থক বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে বেলা ১টার দিকে কাওসার–সমর্থিত অংশ প্রেসক্লাব চত্বরে সমাবেশ শুরু করে। এতে বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি অমিয় সরকার, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশিকুর রহমান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘সভাপতি একাধিক অপরাধের হোতা। তিনি একটি খুনের মামলার আসামি। তিনি সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবার আত্মগোপনে চলে গেছেন। আত্মগোপনে থেকে তিনি ইচ্ছেমতো কমিটি ভাঙছেন, বিলুপ্ত করছেন আবার গঠনতন্ত্র না মেনে আংশিক কমিটি দিচ্ছেন। সদর কমিটির সভাপতি যাঁকে করা হয়েছে, তিনি এক সন্তানের বাবা, সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। আমরা এ কমিটি মানি না, মানব না। আমাদের আন্দোলন চলবে।’
অভিযোগের বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুর রশিদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কাওসার তাঁর দুই কর্মীকে মারধর করেছেন। কাওসার জেলা ছাত্রলীগে এক অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।
মারধরের অভিযোগ করে কাওসার আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, সংবাদ সম্মেলন করে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগের আরেক পক্ষ তাঁর দুই সমর্থক ফাহিম মৃধা ও সজীবকে মারধর করেছে। তাঁর লোকজন অর্ঘ্য ও শুভকে মারেননি। এমনকি অর্ঘ্যকে চিনলেও তিনি শুভকে চেনেন না বলে দাবি করেন।