পাবনায় সংসদ সদস্যের নামে এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ, অবাঞ্ছিত করার হুঁশিয়ারি

এনসিপির দুই নেতার বক্তব্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে পাবনা জেলা বিএনপি। আজ সোমবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনেছবি: প্রথম আলো

পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতা মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে জেলা বিএনপি। আজ সোমবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন জেলা বিএনপির নেতারা এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির ওই দুই নেতাকে মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করে জেলাবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। অন্যথায় পাবনায় তাঁদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

পাবনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। এ সময় তিনি জানান, ৯ জুলাই এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার পাবনা সদর ও চাটমোহরে রাজনৈতিক সফর করেন। বিএনপি তাঁদের স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু এনসিপির দুই নেতা তাঁদের সভা–সমাবেশে বিএনপি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নামে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত বক্তব্য দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিএনপির পাবনা জেলা শাখা এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষারের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তাঁদের বক্তব্য ছিল উসকানিমূলক ও সংসদ সদস্যের সম্মানহানির অপচেষ্টা। এনসিপি নেতাদের মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। শিমুল বিশ্বাসের নামে তাঁরা মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে পাবনার মানুষের মনে যে ক্ষত সৃষ্টি করেছেন, তার জন্য পাবনাবাসীর কাছে তাঁদের ক্ষমা চাইতে হবে। তা না করলে পাবনার জনগণ যেকোনো সভা-সমাবেশে সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবেন।

সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জনকল্যাণমূলক কাজে পাবনার জনগণের নেতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করেন মকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেন না। পাবনার জনগণ তাঁদের আস্থা, বিশ্বাস ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে তাঁকে হৃদয়ে ধারণ করেছেন। শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নামে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়ে পাবনার জনমনে বিন্দুমাত্র রেখাপাত করা সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সামাদ খান, আনিসুল হক, নূর মোহাম্মদ মাসুম, শেখ তুহিন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক হিমেল রানাসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পাবনা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খন্দকার আক্তার হোসেন বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চাই না। মিলেমিশেই থাকতে চাই। যে বক্তব্য নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটি আসলে ভুল–বোঝাবুঝি। আমরা এর অবসান চাই।’

৯ জুলাই পাবনা সফরে এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষার অভিযোগ করেছিলেন, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের ইন্ধনে জুলাই অভ্যুত্থানে করা হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন না। ওই বক্তব্যর পর থেকেই বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতারা ক্ষুব্ধ হন। গত কয়েক দিনে জেলা ছাত্রদল, জেলা যুবদল, সেচ্ছাসবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। প্রতিটি মিছিল–সমাবেশ থেকে এনসিপি নেতাদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়।