জামায়াত নেতৃত্বাধীন মোর্চার প্রার্থীর গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ছাত্রদলের সাবেক নেতার

ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম খানছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী মোর্চাভুক্ত দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী ওরফে ধলা হুজুর বনগ্রামে গেলে তাঁর গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি কল রেকর্ড গতকাল শুক্রবার ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

ভাইরাল কল রেকর্ডটি ৫ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের। এতে এক প্রান্তে কথা বলতে শোনা যায় নগরকান্দা উপজেলার বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ও পুরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রবিউল ইসলাম খানকে। তিনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। অপর প্রান্তে কথা বলেন একই গ্রামের বাসিন্দা রিকশা প্রতীকের প্রার্থী শাহ আকরাম আলীর সমর্থক মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মাওলানা শোয়াইব ইসলাম।

কথোপকথনের একপর্যায়ে ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম খানকে বলতে শোনা যায়, ‘তুই গ্যারান্টি দে, তোর ধলা হুজুর এমপি হবে। তাইলে আমাদের ভোটও দিবানে। তোর যদি এতই ভোট দেওয়ার দরকার হয়, তুই নিজের ভোট দে। আমি তোকে একটা কথা বলি—হুজুরকে আনার দরকার নাই। হুজুর এখানে এলে আমার সমস্যা আছে।’

রবিউল আরও বলেন, ‘তুমি তোমার মতো চলো, আনার দরকার নাই। আনার সময় যদি ঝামেলা হয়, সেটা ঠেকাবেনে কিডা?’ কথোপকথনের শেষ পর্যায়ে রবিউলকে বলতে শোনা যায়, ‘ধলা হুজুর ক্যা, তোর ধলা হুজুরের বাপও বনগ্রাম মোড়ে আসতে পারবে না। গাড়ি দিবানে জ্বালাইয়া।’

কল রেকর্ডের অপর প্রান্তে থাকা মাওলানা শোয়াইব ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘গণতান্ত্রিকভাবে এই দেশে আমার রাজনীতি করার অধিকার আছে। পৃথিবীতে মানুষ হিসেবে আমার বাঁচার অধিকার আছে। আমার মতে চলার অধিকার আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার গর্দান মাথায় থাকতে আমি হুজুরকে আনব।’

জানা গেছে, শাহ আকরাম আলী বনগ্রামে একটি দোয়া মাহফিলে অংশ নিতে আসার কথা ছিল। তাঁকে ওই গ্রামে আনতে বাধা দেন ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম খান। তিনি ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদের সমর্থক বলে পরিচিত।

অভিযোগ অস্বীকার করে রবিউল ইসলাম খান বলেন, বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘মাওলানা শোয়াইব ইসলাম আমার এলাকার এক বিএনপি সমর্থকের বাড়িতে জোরপূর্বক ধলা হুজুরকে নিয়ে কর্মসূচি করতে চাচ্ছিলেন। ওই পরিবার এতে বিব্রত হয়ে আমাকে জানায়। আমি শুধু বলেছি, যেখানে বাড়ির মালিকই চাচ্ছে না, সেখানে জোর করে কেন যাবেন। আমার বক্তব্য এআই দিয়ে এডিট করে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সোহরাব হোসেন বলেন, বাড়াবাড়ি ভালো নয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রশাসনকে এ বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ওই ব্যক্তি (রবিউল ইসলাম) ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ করেছে। এখন গা বাঁচানোর জন্য আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে অতি বিএনপি সেজেছে। আমরা যা করতে মানা করি, সে তা-ই করে বেড়ায়। আপা (শামা ওবায়েদ) এ ব্যাপারে কঠোর। পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’

এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি বলে জানান নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল সামদানী। তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে অডিওটি শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’