জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণে দুজন নিহতের ঘটনায় ৫৩ ব্যক্তির নামে মামলা
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নে ঘরের মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে আজ শুক্রবার দুপুরে বিস্ফোরক আইনে মামলাটি করেছেন। ওই মামলায় ৫৩ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১৫০ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁরা হলেন মনির ব্যাপারী, রুবেল ব্যাপারী ও নয়ন মোল্যা। নয়ন ওই বিস্ফোরণের ঘটনার সময় আহত হয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও সিআইডির ক্রাইমসিন বিভাগ বিস্ফোরণ হওয়া ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ককটেল তৈরির বিভিন্ন উপাদান উদ্ধার করেছে। ওই সব উপাদান দিয়ে অন্তত ১০০ ককটেল বানানো সম্ভব বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশ জানিয়েছে, জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে নতুন নির্মিত একটি বসতঘরের মধ্যে ককটেল তৈরি করছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থকেরা। এ সময় ওই ঘরে বিস্ফোরণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভোররাতের দিকে সোহান ব্যাপারী নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকেলে নবীন হোসেন নামের আরেকজনের মৃত্যু হয়।
নিহত সোহান চেরাগআলী ব্যাপারীকান্দি গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর ছেলে ও নবীন হোসেন রহিম সরদারের ছেলে। পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের পর ককটেল তৈরিতে জড়িত ব্যক্তিরা সোহানের লাশ ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ মিটার দূরে সাতঘরিয়াকান্দি এলাকায় একটি ফসলি জমিতে ফেলে পালিয়ে যান। আর আহত ব্যক্তিদের ঢাকার দিকে নিয়ে যান।
শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে যান পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সিআইডির ক্রাইম সিন বিভাগের সদস্যরা। তাঁরা ওই ঘর থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন। শুক্রবার দুপুরের দিকে মুলাই ব্যাপারীকান্দী গ্রামের ওই ঘরটিতে তল্লাশি অভিযান শেষ করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা সেখান থেকে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম টিনের জর্দার কৌটা, কাচ ভাঙা, কাচের মার্বেল, বিস্ফোরক–জাতীয় দাহ্য পদার্থের পাউডার, তারকাঁটা ও লোহার টুকরার অংশ উদ্ধার করা হয়।
বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, যে ঘরটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ককটেল বানানোর নানা ধরনের উপাদান উদ্ধার করা হয়েছে। এসব মালামাল জাজিরা থানায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাজিরা থানায় বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার হওয়া অবিস্ফোরিত কিছু ককটেল নদীর তীরে নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তাঁদের ধারণা, বৃহস্পতিবার ভোররাতের দিকে ওই ঘরে ককটেল বানানোর সময় বিস্ফোরণ ঘটে। তখন সেখানে মজুত থাকা আরও ১০-১৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটার কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, জাজিরার বিলাসপুরে ঘরের মধ্যে বিস্ফোরণের ঘটনায় ৫৩ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে মামলাটি করেছেন। ওই মামলায় তিনজন ব্যক্তি গ্রেপ্তার আছেন। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। আর বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁরা কোথা থেকে কীভাবে এসব বিস্ফোরক দ্রব্য সংগ্রহ করেছেন, তা–ও তদন্ত করা হচ্ছে।