যশোরে রিকশাচালককে মারধর করা আইনজীবীর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
যশোরে রিকশাচালককে প্রকাশ্যে চড়থাপ্পড় মারার ঘটনায় অভিযুক্ত আইনজীবী আরতি রানী ঘোষের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে জেলা ভ্যান রিকশা শ্রমিক লীগ। আজ মঙ্গলবার বিকেলে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এদিকে রিকশাচালককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত আরতি রানী ঘোষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি।
ভ্যান রিকশা শ্রমিক লীগের সভাপতি আবু তাহের মিয়ার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইনছুর আলী, জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক কাজী আবদুস সবুর, জেলা শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জবেদ আলী প্রমুখ বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আইনের মানুষ হয়েও আইনজীবীর বেআইনি কাজে তাঁরা লজ্জিত। বিনা দোষে একজন রিকশাচালককে প্রকাশ্যে মারধর ও জুতাপেটা করে ওই আইনজীবী ঘৃণিত কাজ করেছেন। তাঁর আচরণে দেশের সব আইনজীবীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। দ্রুত ওই আইনজীবীকে শাস্তির আওতায় না আনলে তাঁরা শহরে রিকশা চালানো বন্ধ করে দেবেন।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু মোর্তজা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রিকশাচালককে মারধরের ঘটনায় আইনজীবী আরতি রানী ঘোষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাঁকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আবু মোর্তজা প্রথম আলোকে বলেন, সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আইনজীবীদের গাউন পরা অবস্থায় একজন রিকশাচালককে প্রকাশ্যে মারধর করা আইনজীবীদের জন্য মর্যাদাহানিকর। এ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আরতি রানী ঘোষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাঁকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আরতি রানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি এখন তাঁর বাড়িতেই আছেন। নোটিশের চিঠি তাঁর বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত আইনজীবী শহরের অম্বিকা বসু লেনের নীলরতন ঘোষের স্ত্রী। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গতকাল সোমবার থেকে আজ সকাল পর্যন্ত একাধিকবার মুঠোফোনে আইনজীবী আরতি রানী ঘোষকে কল দিয়েও পাওয়া যায়নি। কেউ তাঁর ফোন ধরেননি।
ভুক্তভোগী রিকশাচালক সাইফুল ইসলাম (৪০) সদর উপজেলার আবদুলপুর সিজালি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার দিন যশোর পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে এক যাত্রীকে নিয়ে শহরের পালবাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে আদালতের সামনের সড়কে ওই আইনজীবী হঠাৎ রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর শরীরে রিকশার চাকা লেগে যায়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে রিকশা থেকে নেমে তাঁর কাছে মাফ চান। এরপরও তিনি জামার কলার ধরে গালিগালাজ করতে করতে তাঁকে চড়থাপ্পড় মারতে থাকেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৬ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো গাউন পরিহিত এক নারী আইনজীবী প্রেসক্লাবের সামনে রিকশাচালকের জামার কলার ধরে চড়থাপ্পড় দিচ্ছেন। মারতে মারতে তাঁকে রিকশার চাবি নিয়ে পৌরসভায় যেতে বলেন। জামার কলার ধরে বারবার ওই রিকশাচালককে পৌরসভায় নিয়ে গিয়ে লাইসেন্স বাতিল করার হুমকিও দিতে দেখা যায়। এ সময় রিকশাচালক বারবার মাফ চাইলেও তিনি শুনছিলেন না। পথচারীরা ওই আইনজীবীকে থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে এক নারী এগিয়ে এলে তিনি ক্ষান্ত হন। এ সময় ওই রিকশাচালক রিকশা নিয়ে চলে যান।