মসজিদ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি রবিউল হক বলেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়কারীকে আল্লাহ পুরস্কৃত করবেন। আমরা শিশু-কিশোরদের নামাজে আগ্রহী করতে এ উদ্যোগ নিয়েছি। শুধু বক্তারমুন্সি এলাকা নয়, আশপাশের গ্রাম ও শহরেও এটা ছড়িয়ে যাক। তাতে কোমলমতি শিশু-কিশোরেরা মুঠোফোনের আসক্তি ও সামাজিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে। ভবিষ্যতেও এমন মহৎ কাজ অব্যাহত রাখা হবে।’

মসজিদ পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে মসজিদ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি রবিউল হক ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের মসজিদ ও নামাজমুখী করতে টানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করলে সাইকেল পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর ১ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৪০ দিন নামাজ আদায়ের কর্মসূচি নেওয়া হয়। এতে বক্তারমুন্সি এলাকার ২১ জন শিশু-কিশোর অংশ নেয়। টানা ৪০ দিন (২০০ ওয়াক্ত) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে জামাতে আদায় করতে সক্ষম হয়েছে ১০ শিশু-কিশোর। বাকি ১১ জন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে আদায় করলেও মাঝেমধ্যে জামাতে আদায় করতে পারেনি। ঘোষণা অনুযায়ী, ১০ শিশু-কিশোরকে একটি করে সাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ১১ শিশু-কিশোরকে দেওয়া হয় উপহারসামগ্রী। তবে প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছে ক্রেস্ট।

সাইকেল পুরস্কার পাওয়া কিশোর শেখ ফাহিম মুনতাসির বলে, ‘টানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করায় এখন মোটামুটি অভ্যস্ত হয়ে গেছি। শুধু পুরস্কার পাওয়ার আশায় নয়, মুসলমান হিসেবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে। জীবনের বাকি সময় যেন জামাতে নামাজ পড়তে পারি।’

মসজিদ পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতির এমন উদ্যোগে তিনি খুব আনন্দিত হয়েছেন। সভাপতির উদ্যোগে ও কমিটির আয়োজনে কিশোরদের নামাজে উদ্বুদ্ধ করতে এই আয়োজন। শিশু-কিশোরেরা যেন মুঠোফোনে আসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকে, এ জন্য এমন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়।