সমাবেশে বক্তারা বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে এক মাসে ১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় বরিশালের মহাসড়কে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বরিশালের অপ্রশস্ত মহাসড়ক ও দুই লেনের সরু রাস্তাই এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন। অথচ পত্রপত্রিকার প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায়, ২০১৮ সালে বরিশালের মহাসড়ক প্রশস্তকরণের প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার কোনো অগ্রগতি হয়নি।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর গাড়ির চাপ বেড়েছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কটি এখনো ২৪ ফুট। এই সরু সড়কের কারণেই সম্প্রতি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বাড়ছে। এ জন্য এই অংশের মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা না হলে আনাকাঙিক্ষত মৃত্যুর মিছিল থামবে না।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, বরিশাল নগরের ২৩টি খাল দীর্ঘদিন ধরে পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন না হওয়ায় নগরে জলাবদ্ধতা বাড়ছে এবং নগরের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। নগরের বিসিক এলাকা, জিয়া সড়ক, ফকির বাড়ি, রূপাতলী হাউজিং, গ্যাস টারবাইন, মুক্তিযোদ্ধা সড়ক, গাউছিয়া সড়ক, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস, কলেজ রোড, গোরস্থান রোড, অক্সফোর্ড মিশন রোড, নথুল্লাবাদ খালপাড় সড়ক, কাউনিয়া হাউজিং, ময়লাখোলা, সাবান ফ্যাক্টরির সড়ক, ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোড, নিউ সার্কুলার রোড, পুরানপাড়া, টিয়াখালি, কাশিপুর চঠা, বাড়ুজ্যের হাটখোলা থেকে কুদঘাটাসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কারের অভাবে খানাখন্দে ভরে আছে। বরিশালের ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট ও ড্রেন সংস্কার, হোল্ডিং ট্যাক্স কমানো ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য পার্কিং স্ট্যান্ড নির্মাণ করতে সিটি করপোরেশনকে উদ্যোগ নিতে হবে।

সমাবেশ শেষে বাসদের নেতা-কর্মীরা দাবির পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। মিছিল শেষে তাঁরা বরিশালের জেলা প্রশাসক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবর স্মারকলিপি দেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন