যশোর ও নেত্রকোনায় অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার লিটারের বেশি জ্বালানি তেল জব্দ

নেত্রকোনার অভিযান চালিয়ে মজুত করা সাড়ে তিন হাজার লিটার ডিজেল জব্দ কো হয়। গতকাল শনিবারছবি: প্রথম আলো

যশোরের মনিরামপুর ও নেত্রকোনায় পৃথক অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জ্বালানি–সংকটকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে এসব তেল মজুত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

নেত্রকোনার সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের হাটখোলা বাজার এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার বিকেলে অভিযান চালানো হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত মেসার্স জহিরুল চৌধুরী নামের লাইসেন্সবিহীন একটি দোকান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা সাড়ে তিন হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জ্বালানি–সংকটকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ওই ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে ডিজেল মজুত করে আসছিলেন। তিনি খোলাবাজারে প্রতি লিটার ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে ডিজেল বিক্রি করতেন। গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি জানতে পেরে প্রশাসনকে জানায়। অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ডিজেলের পাশাপাশি তেল স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জামও জব্দ করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ী জহিরুল চৌধুরী আদালতের কাছে অপরাধ স্বীকার করলে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘পেট্রোলিয়াম আইন লঙ্ঘনের অপরাধে ওই ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন আদালত। এ ছাড়া মজুতকৃত অবৈধ ৩ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের দুজন সদস্যকে জিম্মায় নিয়ে কাছের ফিলিং স্টেশনে সর্বসাধারণের কাছে সরকারি রেটে বিক্রির উদ্দেশ্যে জমাদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।’

এদিকে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া বাজারে গতকাল বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে একটি ধানের গুদাম ও অনুমোদনহীন তেল বিক্রির দোকান থেকে ৭৭৫ লিটার ডিজেল, ২৩০ লিটার পেট্রল ও ৮৫০ লিটার মবিল জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন।

এলাকাবাসী জানান, গতকাল দুপুরে খেদাপাড়া বাজারে গোবিন্দ দাসের ধানের গুদামে প্লাস্টিকের ড্রামে রাখা ১০০ লিটার পেট্রল দেখতে পান তাঁরা। পরে বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) জানানো হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় মানুষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেলা তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত খেদাপাড়া বাজারে অভিযান চালানো হয়। প্রথমে গোবিন্দ দাসের ধানের গুদাম থেকে ১০০ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়। এরপর তেল ব্যবসায়ী তবিবর রহমানের অনুমোদনহীন দোকানে অভিযান চালিয়ে ৭৭৫ লিটার ডিজেল, ১৩০ লিটার পেট্রল ও ৮৫০ লিটার মবিল জব্দ করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, জব্দ করা জ্বালানি তেলের মালিক তবিবর রহমান। তাঁর তেল বিক্রির কোনো লাইসেন্স নেই। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অবৈধভাবে তেল মজুত করে বিক্রি করে আসছিলেন। নিজের দোকানের পাশাপাশি পাশের গোবিন্দ দাসের ধানের গুদামেও তেল মজুত করে গোপনে বেশি দামে বিক্রি করতেন। অভিযানের খবর পেয়ে আগেই তিনি পালিয়ে যান।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বলেন, ‘গতকাল দুপুরে আমরা খবর পাই, উপজেলার খেদাপাড়া বাজারে ধানের গুদাম এবং অনুমোদনহীন জ্বালানি তেল বিক্রির দোকানে প্লাস্টিকের ড্রামে তেল মজুত করা আছে। এ খবরের ভিত্তিতে বিকেলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তেলের মূল মালিক তবিবর রহমানকে পাওয়া যায়নি। এরপর গোবিন্দ দাসের ধানের গুদামে অভিযান পরিচালনা করে ১০০ লিটার পেট্রল এবং তবিবর রহমানের তেল বিক্রির দোকান থেকে ৭৭৫ লিটার ডিজেল, ১৩০ লিটার পেট্রল ও ৮৫০ লিটার মবিল জব্দ করা হয়। তবিবর রহমানের জ্বালানি তেল বিক্রির কোনো লাইসেন্স নেই। অবৈধভাবে মজুত করা ওই তেল জব্দ করা হয়েছে। এই তেল মনিরামপুর বাজারের ফিলিং স্টেশনে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।’