পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের পর ব্যবসায়ীর চিৎকার, ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক এলাকাবাসীর
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের সময় দুই যুবককে আটক করেছেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় অপহৃত ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেনকে (২৮) উদ্ধার করা হয়। পরে আটক দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। গতকাল রোববার বিকেলে পোগলা ইউনিয়নের আমবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা বাজারের আবদুল লতিফ তালুকদারের ছেলে মো. সিজন মিয়া (৩৪) ও একই এলাকার আবদুল হামিদ মিয়ার ছেলে মো. সুজাত মিয়া (৩৩)। আজ সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
আর উদ্ধার হওয়া যুবক সোহরাব হোসেন বারহাট্টার চন্দ্রপুর পালপাড়া গ্রামের ওয়ারেজ আলীর ছেলে। তিনি নৈহাটি বাজারে মোবাইল ব্যাংকিং ও মনিহারি পণ্যের ব্যবসা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে নিজের দোকানে কাজ করছিলেন সোহরাব হোসেন। এ সময় প্রতিবেশী মামুন মিয়া মুঠোফোনের জানান, তাঁর বাড়িতে ঝগড়া লেগেছে, দ্রুত বাড়ি যেতে। খবর পেয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হন সোহরাব। কিছু দূর যাওয়ার পর সিজন, সুজাতসহ আরও কয়েকজন দুটি মোটরসাইকেল দিয়ে তাঁর পথরোধ করেন। তাঁরা নিজেদের পুলিশ বলে পরিচয় দেন এবং সোহরাবের নামে ওয়ারেন্ট আছে বলে হাতকড়া পরিয়ে তাঁদের মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। পরে পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার আমবাড়ি এলাকার একটি জঙ্গলে নিয়ে সোহরাবকে মারধর করা হয় এবং ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে সোহরাবকে নিয়ে অন্যত্র যাওয়ার জন্য রওনা হন অপহরণকারীরা। পথে আমবাড়ি বাজারে পৌঁছালে মোটরসাইকেল থেকে নেমে চিৎকার দেন সোহরাব। বাজারের লোকজন ছুটে এলে ঘটনাটি জানানো হয়। পরে স্থানীয় লোকজন সোহরাবকে উদ্ধার করেন এবং সিজন ও সুজাতকে আটক করেন।
খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রাতেই তাঁদের বারহাট্টা থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় সোহরাব হোসেন বাদী হয়ে সিজন মিয়া, সুজাত মিয়া, সদর উপজেলার দুর্গাশ্রম গ্রামের শাহিন মিয়া (৩২), বারহাট্টার চন্দ্রপুর গ্রামের মো. মামুন মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করে বারহাট্টা থানায় মামলা করেন।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও এক জোড়া হাতকড়া জব্দ করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাঁরা নিজেদের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন। তাঁদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলেও ‘পুলিশ’ লেখা আছে। ওই দুজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ বিকেলে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।