বাংলাদেশে এসে লক্ষ্মীপুরের ছেলেকে বিয়ে করলেন ইন্দোনেশিয়ার তরুণী

বাংলাদেশের ছেলে মামুন হোসেন ও ইন্দোনেশিয়ার মেয়ে সিতি রাহাইউ বিয়ে করেছেন
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় একই প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে দুজনের পরিচয়। সেই থেকে বন্ধুত্ব। পরে সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। একজন বাংলাদেশি মামুন হোসেন (৩০) ও অন্যজন ইন্দোনেশিয়ার তরুণী সিতি রাহাইউ (২৫)। পাঁচ বছর প্রেমের পর অবশেষে ছুটিতে বিয়ে করতে বাংলাদেশে এসেছেন তাঁরা।

গতকাল রোববার আদালতের অনুমতি নিয়ে মামুন ও সিতির বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। আজ সোমবার সকালে লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের আইনজীবী শাকিল পাটওয়ারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর মাধ্যমেই গতকাল বিকেলে আদালতে অ্যাফিডেভিট ও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সিতি রাহাইউ ইন্দোনেশিয়ার বিনজাই শহরের ফুনুং কারাং এলাকার মৃত জুমিরান ও রাতনারিং দম্পতির মেয়ে। আর মামুন হোসেন রায়পুর উপজেলার উত্তর কেরোয়া গ্রামের রফিক উল্লাহ ও সেতারা বেগমের ছেলে। মামুন ও সিতি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

বিয়ের খবরে মামুনের বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর আগে গত মার্চে প্রেমের টানে ইন্দোনেশিয়া থেকে লক্ষ্মীপুরে এসেছিলেন ফানিয়া আইয়প্রেনিয়া নামের এক তরুণী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে মালয়েশিয়া থেকে একটি ফ্লাইটে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন মামুন ও সিতি। মামুন তাঁকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর কেরোয়া গ্রামে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

মামুনের বরাত দিয়ে আইনজীবী শাকিল পাটওয়ারী বলেন, ২০১৭ সালে চাকরির সুবাদে মালয়েশিয়ায় সিতির সঙ্গে মামুনের পরিচয়। এরপর তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের জন্য তাঁরা মালয়েশিয়া থেকে এক মাসের ছুটি নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। ছুটি শেষে তাঁরা আবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যাবেন।

মামুন হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিতি রাহাইউ অনেক ভালো মেয়ে। তাঁর মধ্যে সন্দেহ বা অবিশ্বাসের ছায়া কখনো দেখিনি। আমার মনে হয়েছে, আমি তাঁর মধ্যে শান্তি খুঁজে পাব। এ জন্য তাঁকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বাংলাদেশে এসে খুব ভালো লাগছে জানিয়ে সিতি রাহাইউ প্রথম আলোকে বলেন, মামুনকে বিয়ে করতে পেরে তিনি অনেক খুশি। তাঁকে নিয়ে বাংলাদেশেই থাকতে চান তিনি।