ধর্ষণের অভিযোগে যুবকের মাথা ন্যাড়া করে পুলিশে দিলেন এলাকাবাসী
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় এক কিশোরীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী এক যুবকের (৩৫) মাথা ন্যাড়া করে পুলিশে দিয়েছেন এলাকাবাসী। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের অভিযোগ এনে ওই কিশোরীর মায়ের দায়ের করা মামলায় ওই যুবককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ। তিনি বলেন, এলাকাবাসী সুমন মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক করেন। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক যুবককে মাথা ন্যাড়া অবস্থায় পায়।
লাখাই থানার ওসি শরীফ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘অভিযুক্ত আটক হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং তাকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছি। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে কিশোরীর মা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। এ মামলায় সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ বিকেলে ওই যুবককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
পুলিশ ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরীকে গত রোববার সকালে তার প্রতিবেশী সুমন মিয়া বাড়ির পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে মেয়েটি বাড়িতে এসে তার মাকে ঘটনা খুলে বলে। তার মা বিষয়টি নিকটস্থ লোকজনকে জানালে তাঁরা লজ্জার ভয় দেখিয়ে নীরব থাকতে বলেন। সুমন মিয়াও কদিন ধরে বাড়িছাড়া।
এর মধ্যে আজ সকালে মেয়েটির আত্মীয়স্বজনেরা জানতে পারেন সুমন মিয়া বাড়িতে এসেছেন। পরে মেয়েটির আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা সুমনের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ধরে গ্রামের একটি মাঠে নিয়ে আসেন। এ সময় সুমন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। বেলা যত বাড়ে, ঘটনাস্থলে লোকজনের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজন আটক সুমনকে মারধর করে তাঁর মাথা ন্যাড়া করে দেন। খবর পেয়ে সুমনকে উদ্ধার করে লাখাই থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
কিশোরীর এক প্রতিবেশী বলেন, ‘অভিযুক্ত সুমন অপরাধী, এর প্রমাণ সে ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ ছিল। আজ সে বাড়িতে আসে, এমন খবরে আমরা এলাকাবাসী তাকে আটক করি। এ সময় উত্তেজিত লোকজন তাকে মারধর করে তার চুল কেটে দেয়।’
মেয়েটির মা বলেন, ‘যে দিন ঘটনা ঘটে, সেদিন সুমনকে আমার বাড়ির আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। প্রতিবেশী হিসেবে আঁচ করতে পারিনি সে আমার মেয়ের এমন সর্বনাশ করবে। ঘটনার পরপরই থানায় অভিযোগ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আত্মীয়স্বজনেরা লজ্জার কারণ দেখিয়ে চুপ থাকতে বলেন। সবাই বলেন, তাঁরা বিচার করবেন।’