হামলা বা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি দাবি করে কাউন্সিলর রেজাউল করিম বলেন, ‘ঈদুল আজহার দিন রাতে কে বা কারা আমার প্রতিবেশী প্রয়াত বেলায়েত চেয়ারম্যানের বাড়িতে আতশবাজি ফোটায়। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের ছেলেরা আমার মাদ্রাসাপড়ুয়া ৯ বছরের ছেলে রাইয়ানকে গালাগাল ও মারধর করে। এটা নিয়ে আমার আত্মীয় ও সমর্থকেরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে আমি ও আমার বড় ভাই মানিক সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করি। এ সময় নাসির নকিব নামের একজন ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে গিয়ে আহত হন।’

মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত বেলায়েত হোসেনের পরিবারের সঙ্গে পৌর কাউন্সিলর রেজাউল করিমের দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলছে। এর জের ধরে ১০ জুলাই ঈদুল আজহার দিন রাত ১০টার দিকে রেজাউল করিম, তাঁর বড় ভাই মানিক হাওলাদার ও রেজাউল করিমের ছেলে মো. জিসানের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ১০–১৫ জন সন্ত্রাসী দা, চাপাতি, পিস্তল, হাতবোমা নিয়ে কলেজ মোড় এলাকায় প্রয়াত বেলায়েত হোসেনের বাড়িতে হামলা চালান।

এ সময় রেজাউল করিম তাঁর হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে বেলায়েত হোসেনের বড় ছেলে মুনির মাহমুদকে পিটিয়ে জখম করেন। একপর্যায়ে রেজাউল কোমর থেকে পিস্তল বের করে গুলি করার চেস্টা করেন। এ সময় মুনিরের ছোট বোন রুমানা তাসমিন ঠেকাতে গেলে ২ নম্বর আসামি মানিক হাওলাদার তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। অন্য আসামিরা বাড়িতে ইটপাটকেল ছোড়েন।

৩ নম্বর আসামি জিসান একটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটান। চলে যাওয়ার সময় মানিক হাওলাদার রড দিয়ে পিটিয়ে বাদীর ছোট ভাইয়ের ভায়রা নাসির নকিবের মাথা ফাটিয়ে দেন। তাঁকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রেজাউল করিমের লোকজনের হামলার ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে মামলার বাদী রিফাত হাসান বলেন, ‘ঘটনার পরপরই ঝালকাঠি থানা–পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরের দিন সোমবার মামলা করতে গেলে ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা নিতে চাননি। এ কারণে বাধ্য হয়ে আজ ঝালকাঠি দ্রুত বিচার আদালতে মামলা করেছি।’

তবে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, মামলা না নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন