আজ বিকেলে পরিচালিত ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন বগুড়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাইম। এ সময় শাজাহানপুর উপজেলার সুজাবাদ এলাকার আবু জাফরের মীর ব্রিকস, জুয়েল রানার বগুড়া ব্রিকস এবং মাহবুবুর রহমানের বদর ব্রিকস গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক সুফিয়া নাজিম প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে অবৈধ সব ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। আজকে অভিযান চালিয়ে তিনটি ইটভাটার চিমনিসহ অন্যান্য অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবারের অভিযানের সময় অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহাথির বিন মোহাম্মদ, মো. তামিম হাসান, মুনতাসির মামুন ও পরিদর্শক মুহাম্মদ মিকাইল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-৪ (এপিবিএন) এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।

সম্প্রতি ইটভাটার কারণে পরিবেশদূষণের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে এনে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ হাইকোর্টে রিট করে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ৮ নভেম্বর রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন। এতে বগুড়া, টাঙ্গাইল, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও—এই চার জেলার অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম সাত দিনের মধ্যে বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই চার জেলায় থাকা অবৈধ ইটভাটার তালিকা দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

বগুড়া জেলা ইট প্রস্তুতকারী ও ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমান পরিবেশ আইন অনুযায়ী দেশের সব ইটভাটা অবৈধ। কিন্তু ৬০ জেলার ইটভাটা বন্ধ না করে শুধু বগুড়াসহ চার জেলার ইটভাটা বন্ধ করাটা বিমাতাসুলভ আচরণ। ইটভাটা বন্ধ করতে হলে সারা দেশের সব ইটভাটা বন্ধ করতে হবে।
আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, বগুড়া জেলায় ২৫০টি ইটভাটার মধ্যে পৌরসভা সীমানার সব অবৈধ ইটভাটার মালিকেরা নিজ দায়িত্বে অপসারণ করেছেন।