লালমনিরহাটে চাঁদা না দেওয়ায় সাংবাদিককে মারধর, ‘বিএনপি নেতা’র বিরুদ্ধে অভিযোগ
লালমনিরহাটে মারধরে আহত হয়েছেন রাসেল হক (৩০) নামের এক সাংবাদিক। তাঁর অভিযোগ চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ও তাঁর লোকজন তাঁর ওপর হামলা করেছেন।
আহত রাসেল হক লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁর ওপর হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
রাসেল হক দৈনিক দাবানল পত্রিকার লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি। গত মঙ্গলবার বিকেলে শহরের রেলওয়ে মুক্তমঞ্চ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতে লালমনিরহাট সদর থানায় রশিদুল ইসলাম (৪৫), শামীম মিয়াসহ (২৬) অজ্ঞাতনামা ১০–১২ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রাসেল হক।
লিখিত অভিযোগে রাসেল হক উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে লালমনিরহাট সদরের মহেন্দ্রনগর এলাকার রশিদুল ইসলাম নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। রশিদুল ও তাঁর লোকজন রাসেলকে ফোন করে নিজ গ্রামের বাড়িতে থাকতে চাইলে কখনো ৫০ হাজার, আবার কখনো ৭৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করতেন। টাকা না দিলে বাড়িতে থাকতে দেওয়া হবে না এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হতো।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, দাবি করা টাকা দিতে না পারায় রাসেল হকের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়। গত মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে সংবাদ সংগ্রহ শেষে দুই সহকর্মীর সঙ্গে শহরের রেলওয়ে মুক্তমঞ্চ এলাকায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় রশিদুল ইসলাম, শামীম মিয়াসহ ১০ থেকে ১২ জন চার-পাঁচটি মোটরসাইকেলে সেখানে যান। তাঁরা রাসেলকে ঘিরে ধরে তাঁর শার্টের কলার টেনে ৭৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে কিলঘুষি মারা হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত রাসেলকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রশিদুল ইসলাম। তাঁর দাবি, ৫ আগস্টের আগে রাসেল হক নিষিদ্ধ যুবলীগের ক্যাডার ও সন্ত্রাসী ছিলেন। তখন দলকে ব্যবহার করে তিনি এলাকায় চাঁদাবাজি করেছেন এবং পুলিশের ভয় দেখিয়ে স্থানীয় লোকজনকে হয়রানি করেছেন।
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব রংপুর বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এস আর শরিফুল ইসলাম রতন ফেসবুকে এক পোস্টে রাসেল হকের ওপর ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অন্যথায় সাংবাদিকদের নিয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
দুই পক্ষই পৃথকভাবে অভিযোগ দিয়েছে উল্লেখ করে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।