মুখোশ পরে এসে ককটেল বিস্ফোরণ, এরপর দোকানে ঢুকে জামায়াত কর্মীকে গুলি

গুলিবিদ্ধ নিজাম উদ্দিনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। গতকাল রাতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সামনে।ছবি: প্রথম আলো

নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলায় জামায়াতের এক কর্মীকে তাঁর দোকানে ঢুকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। গুলি করার আগে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। গতকাল রোববার রাতে উপজেলার ১ নম্বর আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের জিনু মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে।

আহত জামায়াত কর্মীর নাম নিজাম উদ্দিন (৩৭)। জিনু মার্কেটে তাঁর একটি মুদিদোকান রয়েছে। তাঁর বুক ও পেটে গুলি লেগেছে। তাঁকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, রাতে ১০টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত মুখোশ পরে এসে জিনু মার্কেট এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণে ঘটায়। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। এরপর ওই দুর্বৃত্তরা নিজাম উদ্দিনের মুদিদোকানে ঢুকে তাঁকে গুলি করেন। পরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মুখোশধারী ওই হামলাকারীরা।

গুলিবিদ্ধ নিজাম উদ্দিনকে আহত অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সেখানে চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

জামায়াতে ইসলামীর বেগমগঞ্জ উপজেলা শাখার আমির আবদুজ জায়েদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের দুর্বৃত্তরা এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এই হামলা চালানো হয়েছে। এর আগেও নিজাম উদ্দিনের ওপর হামলা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি করেন তিনি।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়েই বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বাজার এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।