স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, গত শনিবার মাগরিবের নামাজের আগে পারনান্দুয়ালীর এই মসজিদে এসে পোঁছান সালাম। এরপর সন্ধ্যায় তাঁর সম্পর্কে জানতে স্থানীয় অনেক মানুষ জড়ো হন। রাতে ওই মসজিদে থাকার পরিকল্পনা ছিল সালামের। স্থানীয় বাসিন্দা কে বি এম হাবিবুল আলম রাতে তাঁর বাড়িতে থাকার অনুরোধ করলে রাজি হয়ে যান তিনি।

হাবিবুল প্রথম আলো বলেন, ‘আমার ভগ্নিপতি দীর্ঘদিন থাইল্যান্ডে ছিলেন। মুঠোফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলার পর নিশ্চিত হই, সালাম থাইল্যান্ড থেকে এসেছেন। তাঁর সঙ্গে তাঁবু থেকে শুরু করে ছোট ছোট হাঁড়িপাতিলসহ প্রয়োজনীয় নানা জিনিসপত্র রয়েছে। তিনি বেনাপোল দিয়ে ভারতসহ কয়েকটি দেশ হয়ে সৌদি আরবে যেতে চান।’

ইংরেজি কথা বলতে পারেন ইছা আবদুস সালাম। বয়স ৬৪ বছর বলে জানালেন। পেশায় স্কুলশিক্ষক সালাম প্রথম আলোকে বলেন, বাড়িতে স্ত্রীকে রেখে এসেছেন। তাঁদের কোনো সন্তান নেই। সৌদি আরবে হজ করতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ১৫ জানুয়ারি বাড়ি ছাড়েন তিনি। প্রথমে সিয়াং রাই থেকে বিমানে ব্যাংককে আসেন। সেখান থেকে ১৭ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছান।

আগে দুবার হজ পালন করলেও এবার সাইকেল চালিয়ে মক্কায় যেতে চান জানিয়ে ইছা আবদুস সালাম বলেন, তাঁর বাড়ি মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় হলেও সেখানে অস্থিতিশীলতার কারণে সরাসরি বিমানে বাংলাদেশে এসেছেন। তাঁর সাইকেলও ঢাকায় এনেছেন বিমানে। সাইকেলে গত পাঁচ দিনে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় পৌঁছান মাগুরায়। এখান থেকে যশোর-বেনাপোল হয়ে তিনি প্রবেশ করতে চান ভারতে। সেখান থেকে পাকিস্তান, ইরান, কুয়েত হয়ে পৌঁছাতে চান সৌদি আরবের মক্কায়। ইছার পরিকল্পনা অনুযায়ী, দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে তাঁর সময় লাগবে ছয় মাস।

হজ পালন শেষে সাইকেলে করে ইরান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিস্তান ও চীন হয়ে আবার থাইল্যান্ডে ফিরতে চান ইছা আবদুস সালাম। ফিরতেও আনুমানিক ছয় মাস লাগবে। তাঁর ফেসবুক ঘেঁটে দেখা যায়, ঢাকা থেকে যাত্রা শুরুর পর পথে বিভিন্ন জায়গায় থেমে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে ছবি তুলেছেন। বাংলাদেশিদের আতিথেয়তারও প্রশংসা করেছেন।

ঘুরতে পছন্দ করেন জানিয়ে ইছা আবদুস সালাম বলেন, এবার সাইকেল চালিয়ে হজ পালন ও এশিয়ার এক ডজন দেশ ঘুরে দেখার পরিকল্পনা নিয়ে বের হয়েছেন।