দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তারাগঞ্জের ২ এসআই ও ৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার

রংপুরের তারাগঞ্জে গণপিটুনির আগে হাত জোড় করে এভাবে বাঁচার আকুতি জানান প্রদীপ লাল (বাঁয়ে)। নিজের পরিচয় বলছিলেন রূপলাল (ডানে)ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

রংপুরের তারাগঞ্জে গণপিটুনিতে রবিদাস সম্প্রদায়ের জামাই–শ্বশুর নিহতের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও ছয় কনস্টেবলকে (সদস্য) তারাগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে নেওয়া হয়েছে। রংপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু সাইম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যাহার হওয়া দুই এসআই হলেন তারাগঞ্জ থানার এসআই আবু জোবায়ের, রংপুর পুলিশ লাইনস থেকে যুক্ত থাকা এসআই সফিকুল ইসলাম। ছয় পুলিশ সদস্য হলেন ফারিকিত আখতার জামান, ধিরাজ কুমার রায়, হাসান আলী, ফিরোজ কবির, মোক্তার হোসেন ও বাবুল চন্দ্র রায়। তাঁরা রূপলাল ও প্রদীপ লালকে উদ্ধারে গিয়ে জনতার হাতে রেখে ফেরত আসেন। বর্তমানে ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারাগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলামকে। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন এসআই আবু জোবায়ের।

পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও তাঁদের বাঁচাতে পারেনি
ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

গত শনিবার রাত ৯টার দিকে তারাগঞ্জের সয়ার ইউনিয়নের বটতলা এলাকায় উচ্ছৃঙ্খল জনতার পিটুনিতে নিহত হন উপজেলার ঘনিরাপুর এলাকার রূপলাল দাস। একই ঘটনায় নিহত হন তাঁর ভাগনির স্বামী প্রদীপ লাল (৩৫)। প্রদীপের বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়াভাটা গ্রামে। রূপলাল স্থানীয় বাজারে জুতা সেলাই করতেন। ছোট্ট একটি টিনের ঘরে তিনি মা, স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ থাকতেন। আর প্রদীপ লাল ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

আরও পড়ুন

এ ঘটনায় পরদিন রোববার রূপলালের স্ত্রী ৫০০ থেকে ৭০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা করলে ওই দিন রাতে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

দুই এসআই ও ছয় কনস্টেবল প্রত্যাহারের বিষয়ে রংপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু সাইম বলেন, ‘তাদের ক্লোজড করা হয়েছে। আমরা ইনকোয়ারি (তদন্ত) শুরু করেছি। তদন্তে যদি কারও দোষ থাকে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন