বাউফলে নিয়োগ পরীক্ষার কক্ষে সাবেক এমপির ছেলে, ছাত্রদলের দুই পক্ষের মারামারি
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় একটি নিয়োগ পরীক্ষার কক্ষে সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলের ঢোকাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার পর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এক পক্ষে ছিলেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শহিদুল আলম তালুকদারের ছেলে আকাশ তালুকদার ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের অনুসারীরা। অন্য পক্ষে ছিলেন বাউফল পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব সাদিকুজ্জামান রাকিবের অনুসারীরা।
সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি করার জন্য তথ্যসংগ্রহকারী, সুপারভাইজার ও আইসিটি সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষা ছিল শনিবার। বাউফল উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এই পরীক্ষার আয়োজন করে।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে আকাশ তালুকদার ও আবদুল্লাহ আল ফাহাদ পছন্দের প্রার্থীদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য মুঠোফোন নিয়ে কক্ষের মধ্যে অবস্থান করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন সাদিকুজ্জামান রাকিব। সাদিকুজ্জামানের ভাই ওই কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিলেন। এ নিয়ে পরীক্ষার পর কেন্দ্রের বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনটি পদে ১ হাজার ১৫৫ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন কক্ষে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৪০ নম্বরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছিল বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ)।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে আকাশ তালুকদার ও আবদুল্লাহ আল ফাহাদ পছন্দের প্রার্থীদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য মুঠোফোন নিয়ে কক্ষের মধ্যে অবস্থান করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন সাদিকুজ্জামান রাকিব। সাদিকুজ্জামানের ভাই ওই কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিলেন। এ নিয়ে পরীক্ষার পর কেন্দ্রের বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
ছাত্রদল নেতা সাদিকুজ্জামান অভিযোগ করেন, আকাশ তালুকদার ও আবদুল্লাহ আল ফাহাদ নিয়োগ পরীক্ষায় অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করেছেন। এর প্রতিবাদ করায় তাঁর ওপর হামলা করা হয়েছে।
তাঁকে (আকাশ) নিষেধ করলে তিনি বলেন, ‘কোনো সমস্যা হবে না।’ এর মধ্যে পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়।
তবে আকাশ তালুকদার বলেছেন, পরীক্ষা শুরুর আগে তিনি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করার জন্য গিয়েছিলেন। আর আবদুল্লাহ আল ফাহাদের দাবি, পরীক্ষার সময় তিনি ও আকাশ পরীক্ষার কক্ষে ছিলেন না। হামলার অভিযোগ সত্য নয়। পরীক্ষা ও সরকারকে বিতর্কিত করার জন্য একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।
পরীক্ষার শেষের দিকে কক্ষের মধ্যে আকাশ তালুকদার ঢুকেছেন বলে জানান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘তাঁকে (আকাশ) নিষেধ করলে তিনি বলেন, “কোনো সমস্যা হবে না।” এর মধ্যে পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়।’
অবৈধভাবে কারও পরীক্ষার কক্ষে থাকার সুযোগ নেই জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা ও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।