রাজশাহীতে কালাভুনায় ঘোড়ার মাংস মিশ্রণের ‘গুজব’, মাংসের নমুনা সংগ্রহ
রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা বাজারের ফয়সাল ভাজা মাংস ও কালাভুনা হোটেলে গরুর মাংসের সঙ্গে ঘোড়ার মাংস মিশিয়ে বিক্রির অভিযোগ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা আজ মঙ্গলবার হোটেলটি পরিদর্শন করে কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করেছেন।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর এমদাদ হক (Emdad Haq) নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়, নওহাটার ফয়সালের কালাভুনার হোটেলে গরুর মাংসের সঙ্গে ঘোড়ার মাংস মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। পরে ভিডিওটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও আইডিতে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় হোটেলটির মালিক মো. ফয়সাল পবা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
আজ হোটেল পরিদর্শনে গিয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে তাঁরা সেখানে গেছেন। কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন সোহরাব খান বলেন, নমুনাগুলো ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল) পাঠানো হবে। পরীক্ষায় মাংস গরুর কি না এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো প্রাণীর মাংস মেশানো হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব। পরীক্ষার ফল পেতে সাধারণত চার-পাঁচ দিন সময় লাগে। বিশেষ ক্ষেত্রে এক সপ্তাহও লাগতে পারে।
সোহরাব খান আরও বলেন, শুধু ওই হোটেল নয়, নওহাটা এলাকার অন্য মাংস বিক্রেতা ও কসাইদের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কার কাছ থেকে মাংস সরবরাহ করা হয় এবং সরবরাহকারী কারা, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী নিয়মিত তদারক করা হবে। পরিদর্শনের সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল লতিফ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে হোটেলের মালিক মো. ফয়সাল বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নওহাটায় গরুর মাংসের ব্যবসা করছেন। প্রতিদিন সকালে কসাইয়ের কাছ থেকে গরু জবাইয়ের পর মাংস সংগ্রহ করেন। সেই মাংস দিয়েই হোটেলে কালাভুনা রান্না করা হয়। ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন ও গুজব বলে দাবি করেন।
ফয়সালের দাবি, তাঁর হোটেলে প্রতিদিন অনেক মানুষ খেতে আসেন। গরুর কলিজা সীমিত থাকায় এমদাদ হক নামের একজন গ্রাহককে কলিজা দিতে না পারায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। পরে ওই ব্যক্তি হোটেলের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগ করে ছড়িয়ে দেন। এতে তাঁর ব্যবসা ও দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ নিয়ে তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মতিন বলেন, হোটেলমালিকের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।